বিশেষ: আজ বিশ্ব রেডিও দিবস, প্রাচীনকালে নিত্যদিনের সঙ্গী বেঁচে আছে আজ স্মৃতিতে

প্রাচীনকালে নিত্যদিনের খবরাখবরের একমাত্র মাধ্যম রেডিও আজ বিলুপ্ত প্রায়। গ্রামে গঞ্জে কোথাও দেখা মিলে না রেডিওর। রেডিও ইংরেজি শব্দ যার বাংলা হচ্ছে বেতার। এক সময় গ্রামগঞ্জের প্রতিটি মানুষের কাছে রেডিওর কদর ছিলো। দেশ বিদেশের খবরাখবর, সঙ্গীত, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে রেডিও ছিলো নিত্যদিনের সঙ্গী। বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক আবিষ্কার ও মোবাইলের সহজলভ্য ব্যবহারে বর্তমানে কোনো কদর নেই রেডিওর।
সূত্রমতে, ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব রেডিও দিবস। বেতার তরঙ্গে সুদূর প্রান্তকে জোড়ার এই গণমাধ্যমের আবিষ্কারের সঙ্গে অনেক বিজ্ঞানীর নাম জড়িয়ে থাকলেও রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে ইতালীয় বিজ্ঞানী গুয়েলমো মার্কনির নামই সবার আগে নেয়া হয়। কারণ, বিংশ শতকে তিনিই প্রথম দূরের সংযোগকে বেতার তরঙ্গে জুড়েছিলেন।
রেডিওকে স্যালুট জানাতে ২০১১ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব রেডিও দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এই দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছিল কারণ, ১৯৪৬ সালে এই দিনেই জাতিসংঘ রেডিও প্রথম আন্তর্জাতিক সম্প্রচার করেছিল। স্পেনের রেডিও অ্যাকাডেমি ২০১০ সালে প্রথম ১৩ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব রেডিও দিবস হিসেবে উদযাপন করার পরিকল্পনা করেছিল। তারপর ২০১১ সালে ইউনেস্কো ১৩ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব রেডিও দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
জানা যায়, আগের দিনে নানা অনুষ্ঠান, বিনোদন ও খেলার বিবরণী ছাড়াও আবহাওয়া, রাজনৈতিক বিভিন্ন ধরণের খবরাখবর শোনার একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। বিশেষ করে উপকূলবাসীদের আবহাওয়ার খবর জানার প্রধান যন্ত্র ছিল এটি। এছাড়া জেলে সম্প্রদায় যারা গভীর সাগরে মাছ আহরণে যেত তারা আবহাওয়ার খবরের জন্য রেডিও ব্যবহার করত।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হতো এটি। প্রাচীনকালে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়ো-বৃদ্ধদের কাছে রেডিও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তরুণ-তরুণীরা বেশির ভাগ সময় নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, গানের ডালি, দূর্বার, সুখি সংসার, দর্পণ, বাংলা ছায়াছবির গান, ম্যাগাজিন ও নাটক শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। কিন্তু আধুনিক যুগে মোবাইল, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের কারণে রেডিও এখন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। বর্তমানে মোবাইলের কারণে রেডিওর জনপ্রিয়তা সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। এখন আর আগের মতো কেউ রেডিও শোনে না।
শীতের রৌদ্রে বাশেঁরপাটি বিছিয়ে রেডিও শোনার অনুভূতি ভোলার মতো না। তখন খবর শুনতাম, পল্লীগীতি শুনতাম। এখন তো টিভিই আছে।
সাবেক প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ছোটকাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু জানা সবই প্রায় এই রেডিওর কারণে। রেডিওর প্রচলন শুরুর পর প্রায় ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয় এই ট্রান্সজেন্টর নামে খ্যাত রেডিও। বাজারে এখন রেডিও পাওয়া দুষ্কর। শত দোকান খুঁজলেও রেডিও পাওয়া মুশকিল।
তিনি আরো বলেন, দিনদিন হারিয়ে যাওয়া রেডিও আগামী প্রজন্মের কাছে শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে বইয়ে পেলেও বাস্তবে রেডিও দেখতে হলে যাওয়া লাগতে পারে বিভিন্ন জাদুঘরে।