পাকিস্তানে নতুন সরকারের সামনে থাকবে যত চ্যালেঞ্জ? জেনেনিন বিস্তারিত

পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে জাতীয় নির্বাচন হলেও, সামরিক বাহিনীর ঘেরাটোপ থেকে বের হতে পারছে না দেশটি। অভিযোগ রয়েছে, দেশটিতে সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারে না, আবার থাকতেও পারে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের শঙ্কা, নির্বাচনের পর দেশটির নিরাপত্তা ব্যাপক হারে ব্যাহত হতে পারে। আর নতুন সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে মুদ্রাস্ফীতি, দরিদ্রতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ।
গেল কয়েকমাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানে। দেশটির ‘সবচেয়ে জনপ্রিয়’ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নানা অভিযোগে কারাগারে ঢোকানো হয়েছে। তার দল পিটিআইকে নির্বাচনে দলীয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হচ্ছে দমন-পীড়ন। প্রতিনিয়ত ঘটছে সহিংসতার ঘটনাও।
নির্বাচনের আগের দিনও বোমা হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৭ জনের। দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য মতে, গেল এক বছরে সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১ হাজারের বেশি।
এমন সংকটময় অবস্থার মধ্যে পাকিস্তানে নির্বাচন হলেও, মিলছে না স্বস্তি। গণতান্ত্রিক দেশ হলেও ঘুরে ফিরে আসছে সেনাবাহিনীর নাম। তিন দশকের বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের ক্ষমতায় থাকা বাহিনীটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের সমর্থন ছাড়া কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারে না আবার থাকতেও পারে না। এবারের নির্বাচনেও একই অবস্থা।
আর তাই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে। নতুন সরকারককে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানে কয়েকবছর ধরেই চলছে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা। মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। দেশটির ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। প্রতিনিয়ত হচ্ছে রূপির অবমূল্যায়ন। এক জরিপ বলছে, পাকিস্তানের চারভাগের তিনভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন, আগামীতে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
গেল বছর দেউলিয়া হওয়ার মুখে ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। যদিও, আইএমএফের কাছ থেকে ৩ বিলিয়র ডলার ঋণ সহায়তা নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেই ঋণের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী মার্চে। আর তাই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জই হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা।
পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশটির সামনে আরেকটি বড় বাধা হলো বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর উত্থান। ইমরান খান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে নতুন করে বেড়েছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। বিভিন্ন প্রদেশে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে পাকিস্তান সরকারেও চেয়েও ক্ষমতাধর হিসেবে পরিচিত সেনাবাহিনীকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়েও ভাবতে হবে পাকিস্তান সরকারকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির ফল কী হতে পারে তা দেখেছেন ইমরান খান। অন্যদিকে দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্র চীন। দুই বিশ্ব পরাশক্তির সঙ্গেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করে চলবে, নাকি কোনো একটিকে বেছে নেবে পাকিস্তান; সেটিও ঠিক করতে হবে নির্বাচনের পরই।