দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডির ‘ডিওর ব্যাগ’ কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজনীতি, জেনেনিন মূল ঘটনা

দক্ষিণ কোরিয়া ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হি সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল ব্যাগ উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অতি দামী সেই উপহার গ্রহণ করার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। চাপের মুখে পড়েছে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি)।
গত বছরের শেষের দিকে প্রকাশিত স্পাই ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন যাজক কিম কিওন হিকে একটি ডিওর ব্যাগ উপহার দিয়েছে। আর এতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে যে, হি প্রায় আড়াই লাখ (২২০০ মার্কিন ডলার) টাকা দামের এই উপহার নেয়ার কারণে চাপের মুখে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি)। সরগরম দেশটির রাজনীতি।

কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এই কেলেঙ্কারি এপ্রিলের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের দলের আবারো নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ভোটাররা ইউনের কাছ থেকে এর ব্যাখ্যা চান এবং বিরোধীরা তাকে আক্রমণ করার জন্য এই বিষয়টি ব্যবহার করছে।

বামপন্থী ইউটিউব চ্যানেল ভয়েস অফ সিউল দ্বারা প্রকাশিত ভিডিওটি যাজক চোই জায়ে ইয়ং তার ঘড়িতে লুকানো একটি ক্যামেরা ব্যবহার করে গোপনে শুট করেছেন বলে জানা গেছে।

এতে দেখা যাচ্ছে চোই ধূসর-নীল বাছুরের চামড়ার একটি ব্যাগ কেনার জন্য একটি দোকানে হেঁটে যাচ্ছেন একটি রসিদ সহ। ব্যাগটির দাম ৩ মিলিয়ন কোরিয়ান ওন (২২০০ মার্কিন ডলার)। এরপর চোই কিমের মালিকানাধীন সিউলের কোভানা কনটেন্টসে যান। সেখানে কিম যাজককে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কেন আমার কাছে এই জিনিসগুলো আনতে থাকেন?

স্থানীয় মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাগটি প্রথম কিমকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে কিম উপহারটি গ্রহণ করছেন তা দেখায় না, কোরিয়া হেরাল্ড রিপোর্ট করেছে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ব্যাগটি নেয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছে এবং বলেছে, ব্যাগটি সরকারের সম্পত্তি হিসাবে রাখা হয়েছে এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশের যোগ্য ভোটারদের ৬৯ শতাংশ তার স্ত্রীর এই উপহার সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যাখ্যা চান। ডিসেম্বরে একটি পূর্ববর্তী জরিপ দেখা যায়, যে ৫৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিশ্বাস করেন কিমের কাজটি করা ঠিক হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এই কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। ইউনের অনুমোদনের হার গত বছর ধরে ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পরেও এই ঘটনা সম্মুখে আসলো।

সিউল-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রি জং-হুন এটিকে “রাজনৈতিক বোমাবাজি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে তিনি বলেন, কিম কিওন হি সংক্রান্ত এই জটিলতা আরো বড় হতে চলেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদের স্ত্রীদের জন্য একবারে ১ মিলিয়ন ওয়ানের বেশি মূল্যের উপহার এবং এক আর্থিক বছরের মধ্যে মোট ৩ মিলিয়ন ওয়ানের উপহার গ্রহণ করা অবৈধ।

বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টিও ইউন এবং তার দলকে আক্রমণ করার জন্য বিষয়টি ব্যবহার করছে।

বিরোধী নেতা হং ইক পিও বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে এটিকে উপেক্ষা করে অথবা ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির অবসান ঘটবে মনে করার কোন মানে নেই।

গত সপ্তাহে আরেক পিপিপি নেতা কিম কিউং ইউল ফার্স্ট লেডি কিমকে কুখ্যাত ফরাসি রানি মারি আন্তোয়েনেটের (যিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন) সাথে তুলনা করেছেন।

বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে কিমের বিরুদ্ধে স্টক মূল্যের কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ দিয়ে আসছে। এই মাসের শুরুর দিকে ইউন তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।

এই কেলেঙ্কারি ইউনের দলের মধ্যেও ফাটল সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি তার দলের নেতা হান ডং হুনকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, এই বিতর্ক জনসাধারণের উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।

পরবর্তীতে উভয়ই তাদের সম্পর্ক সংশোধন করেছে বলে মনে হচ্ছে কারণ হান এখনো পার্টিতে রয়েছেন।

ইউনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে তার দলকে অনেক ভোগাতে হতে পারে বলে সোগাং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কিম জে চুন দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে বলেছেন।

হানকে ইউনের অভিভাবক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং তাকে ২০২৭ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।