মহুয়া একা নন, ৩৫ বছরে সাংসদ পদ বাতিল ৪২ সংসদের! দেখেনিন তালিকায় কে কে রয়েছেন ?

২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ হয়। লোকসভার এথিক্স কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রিপোর্টে বলা হয়, মহুয়া মৈত্র সংসদের বিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি ২০২২ সালের মার্চ মাসে লোকসভায় প্রশ্ন করার জন্য একটি সংস্থার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এথিক্স কমিটিতে অভিযোগ দায়ের করেন।
এথিক্স কমিটির রিপোর্টে বলা হয়, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, মহুয়া মৈত্র সংস্থার কাছ থেকে টাকা পেয়েছিলেন এবং তিনি সেই টাকার বিনিময়ে লোকসভায় প্রশ্ন করেছিলেন।
মহুয়া মৈত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করেননি। তিনি বলেছেন যে তিনি সংস্থার কাছ থেকে টাকা পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই টাকা প্রশ্নের জন্য ছিল না।
মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার ফলে ভারতের সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়। এই ঘটনাটি দেখায় যে ভারতের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের সংসদ সদস্য পদ হারাতে হতে পারে।
ভারতে সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা
ভারতের সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ রয়েছে। এই আইনের ১০২(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের অধীনে, একজন সংসদ সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে যদি তিনি:
দেউলিয়া হন
অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন
মানসিকভাবে অসুস্থ হন
সরকারের কোনও লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হন
সংসদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন
মহুয়া মৈত্রের ক্ষেত্রে, তিনি সংসদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে মহুয়া মৈত্র টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করেছেন, যা সংসদের আচরণবিধির লঙ্ঘন।
ভারতে সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতার পূর্বের ঘটনা
মহুয়া মৈত্রের আগে, ভারতের সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
১৯৫২ সালে, ইন্দিরা গান্ধীকে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১০২(১)(e) অনুচ্ছেদের অধীনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি একজন দেউলিয়া ব্যক্তি হয়েও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
১৯৮৯ সালে, মুফতি মোহাম্মদ সইদকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি তার দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
১৯৮৯ সালে, সত্যপাল মালিককেও দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০০৪ সালে, ১৪ তম লোকসভায় ১৯ জন সংসদ সদস্যকে ঘুষ নিয়ে প্রশ্নের অভিযোগে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০০৮ সালে, আস্থা ভোটের সময় ক্রস ভোটিংয়ের জেরে নয় সংসদ সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার ঘটনাটি ভারতের সংসদ সদস্যদের জন্য একটি সাবধানবাণী। এই ঘটনাটি দেখায় যে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের সংসদ সদস্য পদ হারাতে হতে পারে।