কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে বেঁচে সন্তান প্রসব, চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় সুস্থ মা-নবজাতক

উত্তর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা অসাধ্যসাধন করেছেন। কার্ডিয়ো-মায়োপ্যাথির রোগিণীকে স্থিতিশীল করে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থাতেই মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সন্তান প্রসব করানো হয়েছে। শুধু মা-ই নয়, সিজার করে মৃত্যুমুখ থেকে ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে তাঁর অপরিণত সদ্যোজাতকেও।

৩২ বছর বয়সী ওই গর্ভবতী নারীর নাম সঞ্চিতা। তিনি উত্তর কলকাতার বাসিন্দা। গর্ভাবস্থার ৩২তম সপ্তাহে আচমকা তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্বামী তাকে তড়িঘড়ি নিয়ে যান চার্নক হাসপাতালে।

ইমার্জেন্সিতে পৌঁছানোর সময় সঞ্চিতার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। প্রবল শ্বাসকষ্টের কারণে তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন। ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ শর্মিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায় জানান, ইতিমধ্যেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে সঞ্চিতার হার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কাডিয়ো-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) এবং শক দিয়ে হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা হয়। কিছুটা ধাতস্থ করে ভেন্টিলেশন দিয়ে তাকে আইসিইউ-তে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শুভায়ু ভট্টাচার্য জানান, সঞ্চিতা প্রাণ ফিরে পাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তার গর্ভস্থ সন্তানের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়েন। কারণ, মায়ের অবস্থা খারাপ হলে সন্তানেরও বিপদ হতে পারে। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখা যায়, গর্ভস্থ সন্তানের হার্টরেট তখনও স্থিতিশীল।

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নন্দিনী চক্রবর্তী সিদ্ধান্ত নেন, দ্রুত সিজার করা দরকার। দক্ষ অ্যানাস্থেটিস্টের সহায়তায় মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সিজারের অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর সঞ্চিতার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও ঝুঁকি রয়েই যায়।

জুনিয়র কনসালট্যান্ট অভিষেক রায় জানান, প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণের কারণে সঞ্চিতার অবস্থা আবারও খারাপ হতে শুরু করে। অন্যদিকে, নবজাতকের হার্টরেটও কম ছিল। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শোভনা হকের তত্ত্বাবধানে নবজাতককে সিপিআর দিয়ে নিওন্যাটাল আইসিইউ-তে পাঠানো হয়। শিশুর অপরিণত ফুসফুসকে কর্মক্ষম রাখতে ওষুধ দেওয়া হয়।

১৭ দিন পর নবজাতক বিপদমুক্ত হয়। দিন কুড়ির মাথায় একরত্তি পুত্রসন্তান-সহ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন সঞ্চিতা।

এই ঘটনায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন সঞ্চিতার স্বামী। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কারণেই তার স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমন্বিত প্রচেষ্টায় যেকোনো দুঃসাধ্য কাজ সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *