OMG! যুবককে মারধরের পর থুতু চাটালেন বিজেপি নেতা, নিন্দায় সরব গোটা দেশ

প্রথমে চড়, লাথি, ঘুষি; এরপর কিছুক্ষণ কান ধরে উঠবসের পর এক যুবককে থুতু চাটতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অমানবিক এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দুমকায়।
এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা।
জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিওটি গত ৬ আগস্টের। যা প্রকাশ্যে এসেছে গত ৮ আগস্ট।
ভাইরাল ভিডিওর ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সালিশি সভার স্টাইলে চেয়ার বসে রয়েছেন বিজেপির জারমুণ্ডির সাবেক বিধায়ক দেবেন্দ্র কুনওয়ার। তার চারদিকে জনতা। সামনে দাঁড়িয়ে দুমকার সাধুডিহ গ্রামের তৌসিফ নামের এক যুবক। সাবেক বিধায়ক তাকে কখনো অশ্রাব্য গালিগালাজ করছেন, কখনো লাথি মারছেন। কান ধরে উঠবস করতেও দেখা যায় তৌসিফকে। এমনকী মাটিতে থুতু ফেলে সেটা চাটতে বাধ্য করা হয় তাকে। এমন ভিডিও সামনে আসার পরে দেশজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়।
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির জারমুণ্ডির সাবেক বিধায়ক দেবেন্দ্র কুনওয়ারের অভিযোগ, নদীতে স্নানরত মেয়েদের ছবি তুলছিলেন তৌসিফ। তাই তিনি তাকে ‘শাস্তি’ দিয়েছেন।
এদিকে গ্রামবাসীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। দোষ ঢাকতেই মিথ্যা কথা বলছেন বিজেপি নেতা।
এছাড়া সাবেক বিধায়ক আইন হাতে তুলে নিতে পারে কিনা তাই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো রকম ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এমন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও পুলিশের পক্ষে দাবি করা হয়েছে এমন কোনো ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র নিন্দা করে জানায়, ঝাড়খন্ডে যুবককে বিজেপির সাবেক বিধায়কের হেনস্তার এই ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক। এই ঘটনা প্রমাণ করে বিজেপি নেতাদের নৈতিকতা বোধের অভাব। সামগ্রিকভাবে দলেরও সেই একই অবস্থা।
এর আগে বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশে এক আদিবাসী দলিতের গায়ে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছিল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ভিডিও ভাইরাল হতেই ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি ওই আদিবাসী অত্যাচারিতকে নিজের বাড়িতে ডেকে তার পা ধুইয়ে দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তারপরও ফের একবার দেখা গেল স্থানীয় স্তরে বিজেপি নেতাদের মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি।