‘ফিট থাকা সত্ত্বেও কেন বাইরে শামি?’ নির্বাচকদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে ইডেনের মহারণের আগে হুংকার বাংলার কোচের!

রঞ্জি ট্রফির গ্রুপ-সি’তে এবছরের শুরুটা স্বপ্নের মতো হয়েছে বাংলা দলের। প্রথম তিনটি ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একদম শীর্ষে রয়েছেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। দলের এই হ্যাটট্রিক জয়ের নেপথ্যে পেস ও স্পিন বোলিংয়ের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।
তবে সোমবার থেকে ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হওয়া মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চতুর্থ ম্যাচে বাংলার বোলিং বিভাগ কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে। দলের দুই অন্যতম মূল পেসার আকাশদীপ এবং মুকেশ কুমার এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডে ‘ভারত এ’ দলের সঙ্গে সফরে রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ইডেনের ২২ গজে বাংলার বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দিতে নামছেন দেশের অন্যতম সেরা পেসার মহম্মদ শামি! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া শামি বর্তমানে আগুনে ফর্মে রয়েছেন।
‘চোটের বালাই নেই, শামি এক অদ্ভুত স্পোর্টসম্যান!’—প্রশংসায় পঞ্চমুখ লক্ষ্মী
রবিবার ইডেনের প্রাক-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে মহম্মদ শামির ফিটনেস এবং মানসিকতা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা।
খোলামেলা সুরে লক্ষ্মী বলেন:
“আপনারা সবাই দেখছেন, গত দু’বছর ধরে টানা ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে শামি। ওঁর শরীরে কোনো চোটের ধারেকাছে বালাই নেই। এখনকার দিনে একজন তরুণ পেসার টানা তিনটে ম্যাচ খেললেই চোট পেয়ে বসে। অথচ গোড়ালির পুরোনো চোট সারিয়ে ফিট হয়ে ফেরার পর থেকে ও একটানা খেলে যাচ্ছে, ফিটনেস তো এককথায় অসাধারণ! ও এক অদ্ভুত স্পোর্টসম্যান।”
ক্রীড়া মহলের একাংশের মতে, শামির এই পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে ঘুরিয়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এবং জাতীয় জাতীয় নির্বাচক কমিটিকে একপ্রকার তির্যক বার্তা দিলেন লক্ষ্মীরতন। কারণ, বর্তমান ভারতীয় টেস্ট দলের পেস অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় দুর্বল জায়গা যেখানে ‘অভিজ্ঞতার অভাব’, সেখানে ফিট থাকা সত্ত্বেও একজন অভিজ্ঞ ম্যাচ উইনারকে কেন বাইরে রাখা হচ্ছে—সেই প্রশ্ন ফের জোরালো হয়ে উঠল।
টপ-অর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে কড়া বার্তা ও জাদেজার সঙ্গে শাহবাজের তুলনা
মহম্মদ শামির ফিটনেস ও আগুনে ফর্ম নিয়ে কোচ সন্তুষ্ট থাকলেও দলের টপ-অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় রয়েছেন তিনি। কেরলের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের উদাহরণ টেনে লক্ষ্মী স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, এবার সময় এসেছে টপ-অর্ডারের ব্যাটারদেরও দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার।
তিনি বলেন, “লাস্ট ম্যাচের উইকেটে সবার জন্য কিছু না-কিছু ছিল। বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটারদের রান করার সুযোগ ছিল। তা না-হলে শাহবাজ শতরান করতে পারত না, সুমন্ত হাফ-সেঞ্চুরি পেত না। তবে যাদের রান আসেনি, তাদের কালকের ম্যাচেই রান করে দিতে হবে। অনেকে সেট হয়ে যাওয়ার পর আউট হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
পাশাপাশি বাঁ-হাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে কোচ বলেন, “বিশ্বে টেস্টের এক নম্বর অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার পরেই ভারতের মাটিতে সেরা অলরাউন্ডার হলেন শাহবাজ।” আগামী দিনে টেস্ট দলে সুযোগ পেলে শাহবাজ যে জাদেজার সেরা বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন, সে বিষয়েও তিনি শতভাগ আশাবাদী।
‘হোম অ্যাডভান্টেজ নেই!’ ইডেনের ন্যাড়া উইকেট নিয়ে কী বললেন কোচ?
মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচটি যে সহজ হবে না, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলার কোচ। তাঁর সাফ কথা, রঞ্জি ট্রফিতে কোনো দলই দুর্বল নয় এবং আত্মতুষ্টির বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।
এদিকে এবারের রঞ্জি ট্রফিতে পিচ তৈরির পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিসিসিআই-এর নিজস্ব কিউরেটরের হাতে। ফলে হোম টিম হিসেবে বাংলা দল নিজেদের পছন্দমতো পিচ পাওয়ার সুবিধা হারাচ্ছে। ইডেনের বাইশ গজ কার্যত ঘাসহীন বা ন্যাড়া। এপ্রসঙ্গে লক্ষ্মী জানান, “একেবারে নেই তা বলা যাবে না, ঘাস কিছুটা রয়েছে। স্পোর্টিং উইকেটই করা হয়েছে। বিসিসিআই-এর কিউরেটর এসেছেন এবং তাঁর নির্দেশেই পিচ তৈরি হচ্ছে। তাই এখানে হোম টিমের আলাদা কোনো অ্যাডভান্টেজ নেই।”
অন্যদিকে, পৃথ্বী শ ছাড়া দলে বড় নাম না থাকলেও, তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া মহারাষ্ট্র দলও ইডেন থেকে শূন্য হাতে ফিরতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের মঞ্চে কে শেষ হাসি হাসে, সেটাই এখন দেখার!