আমেরিকায় বড় রাজনৈতিক পালাবদল! পুতিনকে নিয়ে মস্ত বড় চাল ট্রাম্পের, শংকায় ইউক্রেন

আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হারের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। ক্রেমলিনের মতে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইউক্রেনকে আমেরিকার সাহায্য কিছুটা বাড়তে পারে, তবুও রাশিয়া আশা করছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কোভ জানিয়েছেন, নির্বাচনী ফলের জেরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার মার্কিন উদ্যোগে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং আমেরিকার আধিকারিকদের মধ্যে পরবর্তী দফার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মেলানিয়া ট্রাম্পের মানবিক উদ্যোগ ও যুদ্ধবিরতি
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছে মস্কো। তাঁর মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় শহর ওলেश्কির আশপাশে কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এর ফলে সেখানে যেমন জরুরি ত্রান সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া গেছে। মার্কিন আইনসভার এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকে ওয়াশিংটনের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই দেখছে রাশিয়া।
ট্রাম্পের পদক্ষেপে মস্কোর স্বস্তি ও জ্বালানি চুক্তি বিতর্ক
গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের বেশ কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার অনুকূলে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে মার্কিন চুক্তি সেই পুরনো চাপ সৃষ্টির নীতির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সস্তা করার যুক্তিতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তির দাম বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল মূলত ইরান যুদ্ধ। একই সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া নামানো থেকেও সাময়িক বিরত থেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের অভিযোগ, ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের সামরিক ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারশিল্ড’-এর গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা ও সৈন্যদের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তে তাঁর কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন, তবুও এটিকে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাজ্য স্তরের আধিকারিকদের আইনি সতর্কতার কারণে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত ডিজেলের ট্যাংকারগুলোকে পথ বদলাতে হয়েছে।
প্যাট্রিয়ট মিসাইলের চাহিদা এবং পুতিন-জেলেনস্কি সমীকরণ
রাশিয়ার লাগাতার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা থেকে বাঁচতে আমেরিকার প্যাট্রিয়ট মিসাইলের ওপর নির্ভর করছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দ্রুত এই অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানালেও, ইরান যুদ্ধের জেরে আমেরিকার নিজস্ব অস্ত্রের ভাণ্ডার হ্রাস পাওয়ায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন ২.১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট মিসাইল বিক্রির অনুমোদন দিলেও পেন্টাগনের বিরুদ্ধে সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ।
ট্রাম্প এর আগে পুতিনকে শান্তি আলোচনার জন্য বেশি মাত্রায় প্রস্তুত বলে উল্লেখ করলেও জেলেনস্কিকে শান্তির পথের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্প পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যিনি গত সপ্তাহের মানবিক যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো বড় চুক্তির ইঙ্গিতও মিলছে।
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে মস্কোর ওপর চাপ বৃদ্ধির জল্পনা
রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মনে করছেন যে মার্কিন সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্যের পর ট্রাম্প হয়তো ইউক্রেনের ওপর সরাসরি কঠোর চাপ সৃষ্টি এড়িয়ে চলবেন। তবে অন্যদিকে জেলেনস্কির দাবি, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সহায়তা আরও জোরালো হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুতিনের জন্য সময়টা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিক্য বাড়লেও ট্রাম্পের স্বাধীন বিদেশনীতিতে সরাসরি লাগাম টানা খুব একটা সহজ হবে না। রাশিয়ার আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট বার্তা, মার্কিন নীতি নির্ধারণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকাই সর্বদা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।