‘BSF-র কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী’, জওয়ানদের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী

প্রতি বছর দীপাবলির পুণ্যলগ্নে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বীর জওয়ানদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই সীমান্ত পরিদর্শনের এই রীতি বজায় রেখে আসছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও কাশ্মীরের বরফাবৃত পাহাড় থেকে শুরু করে কচ্ছের রণ—কখনও সেনা তো কখনও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গেই আলো জ্বালিয়েছেন মোদী। এ বছরও ছত্তীসগঢ়ের বস্তারে সেনাকর্মীদের মাঝে দীপাবলি উদযাপন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দেখানো সেই পথেই এবার হাঁটলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কালীপুজো ও দীপাবলির বিশেষ দিনে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর হিঙ্গলগঞ্জের বিএসএফ (BSF) ক্যাম্পে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে জওয়ানদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের হাতে মিষ্টিও তুলে দেন তিনি।

বিএসএফ ক্যাম্পে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন প্রসঙ্গে মোদী-রাজনাথের অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করেন শুভেন্দু। এর পরপরই তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করে জওয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সীমান্তের সমস্ত বীর জওয়ানদের জানাই দীপাবলির শুভেচ্ছা। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতি বছর সীমান্তে জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেন, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে আজ রাজ্যের প্রধান হিসেবে আমি অত্যন্ত লজ্জিত। পূর্বতন সরকারের আচরণের জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আগের সরকার বিএসএফের প্রতি কটু ও খারাপ শব্দ প্রয়োগ করেছে। সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বহু জায়গায় জমি দিতে গড়িমসি করা হয়েছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সীমান্তে জমি সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা দ্রুত মেটানো হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

সীমান্ত সুরক্ষা ও যুবকদের কাজের প্রতিশ্রুতি

হিঙ্গলগঞ্জের এই সফর থেকে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রেবশ রোধ এবং সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার শিক্ষিত যুবক-যুবতী, যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, বর্তমান রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে ও আগামী দিনে চালু হতে যাওয়া নানা কর্মসূচীতে তাঁদের কাজের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে।”

জওয়ানদের জন্য চালু হচ্ছে ‘সীমা মিত্র সম্মান’

সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলিকে উৎসাহ দিতে এদিন এক নজিরবিহীন ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ (BSF), এসএসবি (SSB) এবং রাজ্য পুলিশের ভালো কাজ ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি জানাতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ (সীমা সুরক্ষা অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হবে।

হিঙ্গলগঞ্জের বিএসএফ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। পরে হিঙ্গলগঞ্জ থানার সংলগ্ন কালীপুজো মণ্ডপে গিয়েও পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *