শুধু পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নয়, এবার সিলেট-চট্টগ্রাম দখল করার দাবি! বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে রাজনীতিতে ভূকম্পন!

পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর পাশাপাশি এবার নোয়াখালী, সিলেট এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দরও ভারতের পুনরুদ্ধার করা উচিত বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেছেন যে, দেশভাগের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ত্রিপুরার রাজপরিবারের আপত্তি পুরোপুরি উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এই ঐতিহাসিক অঞ্চলগুলি তৎকালীন পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বিজেপি সাংসদের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।

নিশিকান্ত দুবের যুক্তি অনুযায়ী, এই তিনটি অঞ্চল মূলত তৎকালীন স্বাধীন ত্রিপুরার শেষ শাসক মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের প্রশাসনিক অধীনস্থ ত্রিপুরার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। দেশভাগের জটিল মুহূর্তে ওই এলাকাগুলি ভারতের অংশ থাকবে নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হবে, তা নিয়ে মহারাজা নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে একাধিকবার দর কষাকষি করেছিলেন। কিন্তু জওহরলাল নেহেরু মহারাজার সেই আর্জি ও যুক্তিকে কোনো গুরুত্বই দেননি।

ইতিহাসের পাতা উল্টে ১৯৪৬ সালের ভয়াবহ নোয়াখালী দাঙ্গার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন এই বিজেপি সাংসদ। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, নোয়াখালীতে একদিনেই যখন প্রায় ১০,০০০ হিন্দুকে নৃশংসভাবে গণহত্যা করা হয়েছিল, তখনও জওহরলাল নেহেরু একবারের জন্যও সেখানে দাঙ্গা বিধ্বস্ত মানুষদের দেখতে যাননি। ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে নেহেরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চরম ব্যাকুল ছিলেন বলেই দাবি নিশিকান্তের। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হলেও নেহেরু ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মধ্যবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পেছনেও নেহেরুর ভুল নীতিকেই দায়ী করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর মতে, দেশভাগের সময় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর হাতছাড়া হওয়ার ফলেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে এবং মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় উত্তর-পূর্ব ভারতের অসীম খনিজ সম্পদ, গ্যাস ও খনিগুলি আজও পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষার স্বার্থে এবং ইতিহাসের সেই মারাত্মক ভুলগুলি শোধরাতে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *