আদালত চত্বরে চরম হট্টগোল! কেন চিৎকার করে অকথ্য গালিগালাজ করলেন পরীমণি?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেটপাড়ায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ঢাকাই সিনেমার এই নায়িকাকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে। ঘটনার সময় পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও আঘাতে চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
বিগত কয়েক দিন ধরে একের পর এক ঘটনায় রীতিমতো নাজেহাল অভিনেত্রী। পাঁচ বছর পুরনো একটি মামলায় গত বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহফুজুর রহমান পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। যদিও বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে ৫০০ টাকার মুচলেকায় আগাম জামিন পান তিনি।
আদালত সূত্রের খবর, জামিন মঞ্জুরের পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময়ই ঘটে মূল বিপত্তি। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি যখন নিজের ১০ জন নিরাপত্তারক্ষীর বলয় পেরিয়ে লিফটের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় জমান সাংবাদিক ও উৎসুক জনতা। সেই সময় এক সাংবাদিক ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ পরীমণির।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডোরাকাটা শাড়ি ও চশমা পরা পরীমণি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার করছেন। ভিড়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ওই গায়ে হাত দিচ্ছিস কেন রে…?” সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে ঘিরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে চারজন সাংবাদিক আঘাত পান। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন মাহমুদ পরীমণির বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, পরীমণি ও তাঁর সঙ্গীরা বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে ঢুকে বিনামূল্যে মদ্যপান করতেন এবং প্রতিবাদ করলে পুলিশ আধিকারিকদের নাম করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিতেন। এই মামলায় শুনানির সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকার কারণেই পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতেই তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত হন।