ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ৮৫ বছরের শরদ পওয়ার! শারীরিক অসুস্থতার মাঝেই এনসিপি জোড়া লাগার জল্পনায় তোলপাড়

মহারাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ তথা এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পওয়ার শনিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। গত তিন দিন ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে ৮৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর নিকটস্থ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পরিচর্যা জারি থাকবে।
ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. প্রতীত সমদানি পওয়ারের শারীরিক অবস্থা স্পষ্ট করে গণমাধ্যমকে জানান, “শরদ পওয়ারকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্রঙ্কাইটিস, বুকে সংক্রমণ ও কাশিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাঁর বয়স বিবেচনা করে কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে চিকিৎসকদের গাইডলাইন মেনে চলছেন।”
পওয়ারের অসুস্থতা ঘিরে রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা
শরদ পওয়ারের হাসপাতালে ভর্তি হওয়াকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় উপস্থিত হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (NCP) দুই বিরোধী গোষ্ঠী—শরদ পওয়ারের দল এবং অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন জোট আবার এক ছাতার তলায় আসতে পারে বলে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, পওয়ারের হাসপাতালে থাকার সময় তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোদীর ফোন, আদানি-শিন্ডে সাক্ষাৎ ও সুনীত্ৰা পওয়ারের অনুপস্থিতি
পওয়ারের অসুস্থতার খবর পেয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করে বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। এরপর হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে একে একে সাক্ষাৎ করেন শিল্পপতি গৌতম আদানি, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, মন্ত্রী ছগন ভুজবল এবং এনসিপি সাংসদ প্রফুল্ল প্যাটেল।
তবে সূত্রের খবর, অজিত পওয়ারের স্ত্রী তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনীত্ৰা পওয়ার পওয়ারের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনবার সময় চাইলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে এসে পৌঁছাননি। বর্তমান রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে তাঁর এই অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী প্রশ্ন ও জল্পনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
প্রফুল্ল প্যাটেলের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও ও ‘১০ নভেম্বর’-এর ইঙ্গিত
সবচেয়ে বেশি চাউর হয়েছে এনসিপি নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল ও শরদ পওয়ারের একটি ভাইরাল ভিডিও। ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই নেতার মধ্যে আগামী ১০ নভেম্বরের পর এক বিশেষ বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পওয়ার নিজে পরামর্শ দিয়েছেন যে, ১০ নভেম্বরের পর তাঁরা যেন একসঙ্গে বসে খোলামেলা আলোচনা করেন। এই একটি ভাইরাল ক্লিপের পর থেকেই এনসিপির দুই মেরু ফের একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পারদ চড়চড় করে বাড়ছে।