মাথায় পঞ্চসর্প আর গায়ের রং রক্তলাল! শান্তিপুরের চামুণ্ডা কালীর অলৌকিক ইতিহাস জানলে শিহরিত হবেন!

‘শ্যামা মা কি আমার কালো রে’—বাঙালির প্রাণের গানে মা কালী মানেই সাধারণত কৃষ্ণবর্ণা রূপটাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু মায়ের রূপ যে বহুরূপী! কোথাও তিনি কালো, কোথাও গায়ের রং নীল, আবার কোথাও তিনি ‘ললিতা’ অর্থাৎ রক্তলাল। নদিয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়াতেও পূজিত হন এমনই এক ব্যতিক্রমী ও রহস্যময়ী রূপের দেবী—চামুণ্ডা কালী। এই মন্দিরে মায়ের গায়ের রং টকটকে লাল এবং মাথার উপরে রয়েছে ফণা তোলা পঞ্চসর্পের রূপ। এই অনন্য পুজোর নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
কোথায় অবস্থিত এই মন্দির?
শান্তিপুরের ফুলিয়া-তাহেরপুর রোডের অরবিন্দ পল্লিতে অবস্থিত এই চামুণ্ডা কালী মন্দির। কালীপুজো বা দীপাবলি ছাড়াও এখানে প্রতি অমাবস্যাতেই বিশেষ পুজো হয়। তবে বিশেষ করে কৌশিকি অমাবস্যা উপলক্ষে প্রতিবছর এখানে তিন দিন ধরে মহা সমারোহে উৎসব ও পুজোয় মেতে ওঠেন ভক্তরা। মায়ের এই দুর্লভ রূপ দর্শন করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পুণ্যার্থীরা।
১৫ বছর আগের ইতিহাস ও বিজয় ক্ষ্যাপার সাধনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন সাধক সন্ন্যাসী বিজয় ক্ষ্যাপা। একসময় রাস্তার ধারে একটি গাছতলায় টিনের ঘরে বসবাস করতেন তিনি। সেখানেই তিনি মায়ের এই বিশেষ লাল রূপের কল্পনা করে পুজোর প্রচলন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট্ট পুজোই আজ বিশাল রূপ ধারণ করেছে এবং পরিচিতি পেয়েছে মা চামুণ্ডা কালীর আরাধনা হিসেবে।
এখানকার ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “মায়ের রং লাল। যিনি এই সৃষ্টি পরিচালনা করেন, তাঁর পরনের রংও লাল। আর লাল রং সবসময় এক আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। মা অত্যন্ত জাগ্রত। বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে মানত করেন এবং ফলও পান। প্রথমে ঠাকুরের মূর্তি ছোট থাকলেও পরবর্তী সময়ে এর আকার বড় করা হয়।”
জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব ও মেলা
কৌশিকি অমাবস্যা এবং কালীপুজো উপলক্ষে মন্দিরে টানা তিন দিন ধরে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পুজোয় মেতে ওঠে পুরো এলাকা। আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, মা চামুণ্ডা কালী অত্যন্ত জাগ্রত এবং ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে তিনি ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করেন। পুজো উপলক্ষে মন্দিরের সামনে বসল মেলা এবং ভক্তদের মাঝে খিচুড়ি সহ নানা পদের প্রসাদ বিতরণের সুব্যবস্থা করা হয়, যা এই উৎসবকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।