“সব জানি, কত প্রোমোশন পাবেন!” ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বাড়ি গিয়ে সরাসরি পুলিশ ও বিজেপিকে তুলোধোনা মমতার!

জন্মদিনের রাত থেকেই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনায় পারদ চড়েছে দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতে বাড়ির সামনেই ধরনায় বসেন অভিষেক স্বয়ং। আর এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালেই সেখানে ছুটে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই বিজেপি এবং পুলিশ প্রশাসনকে একহাত নেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর মুখে শোনা যায় বুলডোজারের প্রসঙ্গও।
ঠিক কী অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিশ ও বিজেপিকে একযোগে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাড়ির সামনে ও আশপাশের এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার ঘরে পুজো হয়। আমাদের পাড়ায় যে ক্লাব আছে, সেই ক্লাবকে কাল রাতে কাজ করতে দেয়নি। এখন রোডের উপরে পুজো হচ্ছে। এটা বেআইনি। এখানে বেআইনিভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগে এই পুজো ভিতরে হত। এখন রাস্তার মোড়ে করছে, যাতে আমার পুজোয় কেউ না আসে। জোরজুলুম চলছে।”
এর পরেই আবেগপ্রবণ ও তেজোদীপ্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “হামারা বুক ম্যায়, হামারা শরীর ম্যায় বুলডোজার চালাও। আমার বুকে বুলডোজার চালাও।”
রাতের হামলা নিয়ে হুংকার
মমতার দাবি, গভীর রাতে যখন গোটা শহর ঘুমাচ্ছে, সেই সময় পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের এনে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “জনতাকে বলছি, রাত ৩টের সময় লুম্পেন নিয়ে এসে কেন কালীপুজোকে আক্রমণ করছ? আমাদের কাজকে কেন ডিস্টার্ব করছ? এটা পটুয়া পাড়া। দুটোব সময় অনেক মা কালীর প্রতিমা এখান থেকে যায়। আপনারা কেন ঝামেলা করছেন?”
তাঁর আরও অভিযোগ, সাংসদ অভিষেকের বাড়ির সামনের রাস্তায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পুজো করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অতিথিদের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি হয়। এলাকায় এত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
পুলিশকে সরাসরি সতর্কবার্তা
এদিন নাম না করে নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা উচিত। প্রয়োজনে তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
মমতা বলেন, “কালীঘাট থানার ওসিকে যখন অভিষেক বলছে, পুলিশ খারাপ ব্যবহার করছে। কিন্তু যখন লক্ষ্মণরেখা ছাড়িয়ে যায়, তখন প্রয়োজনে আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়াব। কয়েকটি থানা… যা করছে… আমি সব জানি বলয়বাবু… আপনার কত ক্ষমতা, কত প্রোমোশন পাবেন। আপনার পরিবার ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। কিন্তু জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটলে কিন্তু… সব মেয়েদের এগিয়ে আসতে বলব।”
জন্মদিনের দিনেই সাংসদের বাড়ির সামনে এমন নজিরবিহীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রীর এই হুংকারে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।