গুরুতর চোট পেয়ে ছিটকে গেলেন আনোয়ার আলি! চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের আগে বড় বিপদে ইস্টবেঙ্গল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টুয়ে ঘরের মাঠে আল-সীবের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে বড়সড় বিপদের মুখে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই হ্যামস্ট্রিংয়ে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের অন্যতম ভরসা তথা রক্ষণের স্তম্ভ আনোয়ার আলি। পরবর্তী সময়ে এমআরআই রিপোর্টে তাঁর গ্রেড-টু হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, ডিসেম্বরের আগে কোনোভাবেই সবুজ মাঠে ফিরতে পারছেন না তিনি। ফলত, দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে ছাড়াই শনিবার আইএসএলের অ্যাওয়ে ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসি-র মুখোমুখি হতে চলেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল।
জোড়া ধাক্কা: আনোয়ারের পর অনিশ্চিত জিকসনও
কেবল আনোয়ার আলিই নন, চোটের কবলে পড়েছেন দলের নির্ভরযোগ্য মাঝমাঠের ফুটবলার জিকসন সিং-ও। তিনিও চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠে নামার ক্ষেত্রে অনিশ্চিত। যদিও দলের সঙ্গেই চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন জিকসন।
মহাদেশীয় প্রতিযোগিতার শেষ দুটি ম্যাচে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বললেই চলে। তবে আইএসএলের শুরুটা দুর্দান্ত করে প্রথম দুটি ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। ফলে দেশের সর্বোচ্চ লিগে ভালো ফল করার স্বপ্ন এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে একের পর এক চোট-আঘাত। রক্ষণ এবং মাঝমাঠের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দলের সামঞ্জস্যে বড় ফাটল ধরাতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগে দিয়েগো জিভুলিচের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন লালচুংনুঙ্গা। দুই সাইডব্যাকে থাকছেন জয় গুপ্তা ও সন্দীপ মান্ডি। অন্যদিকে, মাঝমাঠে জিকসনের পরিবর্তে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে রোহিত কুমারকে।
কী বললেন কোচ হাবাস?
দলের মূল ডিফেন্ডারকে হারানোর পরেও প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে খুব একটা বিচলিত দেখা যায়নি কোচ হোসে মোলিনা হাবাসকে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলে বহু প্রতিভাবান ও যোগ্য ফুটবলার রয়েছে। প্রত্যেকেই একে অপরের পরিপূরক এবং এই পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে তরুণদের সামনে।
প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়িন সম্পর্কে যথেষ্ট সমীহ রয়েছে হাবাসের গলায়। ম্যাচ যে একেবারেই সহজ হবে না, তা মেনে নিয়ে তিনি জানান, দলের কাছে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য সুন্দর ফুটবলের চেয়েও যেকোনো মূল্যে ম্যাচ জেতা। এ প্রসঙ্গে হাবাস বলেন, “প্রতিপক্ষের শক্তি ও ফুটবলারদের মান সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি সচেতন। তবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে কোনো উপায়ে জয়ের রাস্তা খুঁজে বের করা।”
ফর্মে রয়েছে আক্রমণভাগ, উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে আশাবাদী দল
গত দুটি ম্যাচে সহজেই গোলের দেখা পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এক্ষেত্রে দুই তরুণ ভারতীয় স্ট্রাইকার এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং ডেভিড লালাহ্লানসাঙ্গা দারুণ ভরসা জুগিয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি পরিবর্ত হিসেবে নেমে আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার আকে লোবাও যথেষ্ট আস্থা অর্জন করেছেন।
তবে ডাগআউটে থাকা সমস্ত বিদেশিদের নিয়ে হাবাসের নীতি বেশ স্পষ্ট—দলে দেশি বা বিদেশি বলে কোনো ভেদাভেদ নেই। শুধুমাত্র বর্তমান পারফরম্যান্স এবং ফিটনেসের মাপকাঠিতেই তিনি প্রথম একাদশ ঠিক করেন। সেই সুবাদে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও, ১৮ জনের স্কোয়াডে থাকছেন আকে লোবা ও পোলিশ স্ট্রাইকার লুকাস জুলোনস্কি।
এখনও পর্যন্ত আইএসএলে দুই দল মোট ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ৪টি ম্যাচ, ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং ৩টি জিতেছে চেন্নাইয়িন। আপাতত দুই ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ নম্বরে রয়েছে লাল-হলুদ শিবির। শনিবারে চেন্নাইয়ের দুর্গ জয় করে জয়ের হ্যাটট্রিক সেরে আইএসএল ফিফা বিরতিতে যেতে মরিয়া ভারতসেরারা।