‘আহা, কী হাঁটার ঢরণ রে বাবা!’ দিল্লির কলেজে গিয়ে মেয়েদের ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন স্বয়ং ‘শাহেনশাহ’?

রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (Kaun Banega Crorepati)-র মঞ্চ মানেই অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) ঝুলির অফুরন্ত স্মৃতির খাতা। জ্ঞান ও বিনোদনের পাশাপাশি বিগ বির মুখে পুরনো দিনের মজার নানা গল্প শোনার জন্য মুখিয়ে থাকেন দর্শকরা। সম্প্রতি কেকেসি-র একটি বিশেষ পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন বলিউড ডিভা মাধুরী দীক্ষিত। আর সেই শোয়ের মঞ্চেই নিজের কলেজ জীবনের এক পটোস ও অতীতে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন ‘শাহেনশাহ’।

শো চলাকালীন নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অমিতাভ বচ্চন জানান, তাঁর জীবনের সেই ঘটনা আজও তাঁর মনে স্পষ্ট গেঁথে রয়েছে। দিল্লির বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী লেডিস কলেজ ‘মিরাণ্ডা হাউস’-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেই স্মৃতি। স্মৃতি রোমন্থন করে বিগ বি বলেন, “আমি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও মজার ঘটনা শেয়ার করতে চাই। যেদিন প্রথমবার আমরা দিল্লির সেই বিখ্যাত গার্লস কলেজের ভেতরে পা রেখেছিলাম, তখন হোস্টেলের বারান্দায় বসা একদল তরুণী আমাদের দেখতে পেয়ে একসঙ্গে চিৎকার করে বলে উঠেছিল— ‘আহা! কী হাঁটার ধরণ রে বাবা!’”

সেদিনের সেই ঘটনার কথা মনে করে মেগাস্টার জানান, কলেজের মেয়েদের মুখে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য শুনে একজন তরুণ হিসেবে তিনি এতটাই লজ্জিত ও অপ্রস্তুত বোধ করেছিলেন যে সে মুহূর্তে ঠিক কী করা উচিত, তা তিনি ভেবেই পাচ্ছিলেন না।

তবে শুধু কৌতুক বা হাসির খোরাক জোগানোই নয়, গল্পের শেষে এসে এক গভীর সামাজিক বার্তা তুলে ধরেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি বলেন, “ঠিক ওই মুহূর্তেই আমি প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম যে, রাস্তায় বা প্রকাশ্যে কোনো নারীকে যখন কেউ কটূক্তি বা ইভ-টিজিং করে, তখন তাঁদের মনের ওপর দিয়ে ঠিক কী ঝড় বয়ে যায়। কারণ, যতক্ষণ না নিজের ওপর দিয়ে সেই পরিস্থিতি যায়, ততক্ষণ অন্যের মানসিক কষ্ট বা যন্ত্রণাকে সহজে অনুধাবন করা যায় না। মিরাণ্ডা হাউসের সেই প্রথম দিনটিতে ওই মন্তব্য শুনে আমি নিজেই একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম।” বিগ বির মুখে এমন অকপট স্বীকারোক্তি শোনার পর সেট উপস্থিত দর্শক ও মাধুরী দীক্ষিতও আপ্লুত হয়ে পড়েন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *