এক ধাক্কায় ৩,০০০ টাকা সস্তা সোনা, রুপো নামল ৫,০০০! উৎসবের পর বাজারে বিরাট পতন!

উৎসবের মরশুম পার হতেই মধ্যবিত্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর! শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক ধাক্কায় অনেকটাই সস্তা হল সোনা ও রুপো। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তাজা তথ্য অনুযায়ী, মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামেই বড়সড় সংশোধন দেখা গিয়েছে।
একদিনে কতটা সস্তা হল সোনা ও রুপো?
IBJA-র ওয়েবসাইটের সূচক অনুযায়ী, গত ৫ নভেম্বর ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সোনার দর ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১২৯ টাকা। ৬ নভেম্বর শুক্রবার তা এক ধাক্কায় ৩,১০৬ টাকা কমে নেমে এসেছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩ টাকায়।
অন্যদিকে, রূপোর দামেও এসেছে বড় পতন। গত ৫ নভেম্বর প্রতি কেজি রুপোর দাম ছিল ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩০০ টাকা। শুক্রবার এক দিনেই ৫,৪৩৭ টাকা কমে প্রতি কেজি রুপোর দাম হয়েছে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬৩ টাকা। ফলে গয়না কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য এই দর পতন কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে।
গত ধনতেরাসের বিনিয়োগে কতটা লাভ?
একদিনে দর কমলেও গত বছরের ধনতেরাসের তুলনামূলক হিসাবে কিন্তু সোনা এখনও লাভজনক জায়গায় রয়েছে।
-
গত বছরের হিসেব: ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ (ধনতেরাসের আগের কার্যদিবস) ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সোনার দর ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৫৮৪ টাকা।
-
বর্তমান দর: ৬ নভেম্বর ২০২৬-এ সেই দর দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩ টাকা।
অর্থাৎ, গত বছরের ধনতেরাসে যাঁরা ১০ গ্রাম সোনা কিনেছিলেন, এক বছরের কিছু বেশি সময়ে তাঁদের সোনার মূল্য বেড়েছে প্রায় ১১,৪৩৩৯ টাকা (প্রায় ৮.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি)।
১ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ এখন কত?
ধরা যাক, গত বছর ধনতেরাসের সময় কেউ সোনায় ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সেই ১ লক্ষ টাকার বিনিয়োগের মূল্য বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ৮২৭ টাকা (লাভ প্রায় ৮,৮২৭ টাকা)।
(উল্লেখ্য: এই হিসেব সম্পূর্ণভাবে IBJA-র ভিত্তিমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। এতে ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) এবং গয়নার মেকিং চার্জ যুক্ত করা হয়নি, তাই বাস্তবে কেনাবেচার ক্ষেত্রে অঙ্কের কিছু তারতম্য হতে পারে।)
রেকর্ড উচ্চতা থেকে নামলেও কেন ওঠানামা করছে সোনার দর?
২০২৬ সালের শুরুর দিকে সোনা রেকর্ড উঁচুতে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতার কারণে দামে সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া বা দুর্বল হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারের নীতি, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার প্রবণতা এবং বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা সোনার দর নিয়ন্ত্রণের মূল চালিকাশক্তি।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন— অতীতে সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে, ভবিষ্যতেও ঠিক একই হারে বাড়বে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই সোনায় নতুন করে বড় বিনিয়োগের আগে বাজারের ওঠানামা ও নিজের আর্থিক লক্ষ্য ভালোভাবে খতিয়ে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।