দীপাবলির আগেই দিল্লিতে ‘গ্যাস চেম্বার’! ৩৮২ ছাড়াল AQI, বন্ধ স্কুল ও নির্মাণকাজ!

উৎসবের ঠিক মুখেই রাজধানী দিল্লি ও তার সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে বায়ুদূষণ। বৃহস্পতিবার দিল্লির গড় বায়ু গুণমানের সূচক (AQI) সরাসরি ৩৮২-এ গিয়ে পৌঁছেছে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিরিখে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি রুখতে এবং আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুরো এনসিআর অঞ্চল জুড়ে অবিলম্বে ‘গ্র্যাপ’ (GRAP)-এর তৃতীয় ধাপ বা স্টেজ-৩ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার ঘোষণা করেছে বায়ু গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন (CAQM)।
বাতাসে বিপজ্জনক বিষ: কী এই গ্র্যাপ ৩?
দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দূষণের তীব্রতা মেপে গ্র্যাপ ব্যবস্থাকে মোট চারটি ধাপে ভাগ করা হয়ে থাকে—খারাপ (AQI ২০১-৩০০), খুব খারাপ (AQI ৩০১-৪০০), গুরুতর (AQI ৪০১-৪৫০) এবং অতি গুরুতর (AQI ৪৫০-এর উপরে)। বর্তমানে বায়ুর গুণমান ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘গুরুতর’-র দোড়গোড়ায় পৌঁছানোয় কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে।
কী কী বিধিনিষেধ জারি হলো?
-
নির্মাণ ও ভাঙার কাজে নিষেধাজ্ঞা: মাটি কাটা, পাইলিং, ট্রাঞ্চিং এবং খোলা আকাশের নিচে রেডি-মিক্স কনক্রিট (RMC) প্লান্টের কাজ সহ সমস্ত ধরনের অ-জরুরি নির্মাণ ও ভাঙার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
-
যানবাহনে কড়াকড়ি: দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর জেলাগুলিতে বিএস-৩ (BS-3) পেট্রোল এবং বিএস-৪ (BS-4) ডিজেল চালিত চার চাকার গাড়ি চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। এছাড়া অন্য রাজ্য থেকে আসা ডিজেল চালিত বাসগুলির প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
-
কলকারখানা ও জেনারেটর বন্ধ: পাথর ভাঙার কল (Stone Crushers), খনি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে না এমন হট-মিক্স প্লান্টগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া ডিজেল জেনারেটর (DG Sets) চালানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
-
স্কুল বন্ধ ও ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম: বিষাক্ত বাতাসের প্রকোপ থেকে শিশুদের বাঁচাতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত প্রাইমারি স্কুল বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমাতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ‘ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম’ বা হাইব্রিড মডেলে কাজ চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজর ও উদ্বেগ
দিল্লির এই তীব্র দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, দীপাবলির সময়ে উপহার দেওয়া-নেওয়ার সামাজিক প্রবণতাই এনসিআর এলাকায় গাড়ি চলাচল ও দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, সমস্যা কেবল দিল্লির স্থানীয় যানবাহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; উৎসবের মরসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন শহরে প্রবেশ করছে, যেগুলির ধোঁয়া পর্যবেক্ষণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।