বিশ্বের সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় ভারতের বড় চমক! কোন দুই জাদুকরী ঠিকানায় বুঁদ বিশ্ব?

বিশ্বমঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতীয় রান্নার ঐতিহ্য, অভিনব উপকরণ এবং মুখরোচক খাবারের গল্প। প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস ৫০ বেস্ট রেস্তোরাঁ ২০২৬’-এর লোভনীয় র‍্যাঙ্কিং। আর এই prestigious তালিকার শীর্ষ পঞ্চাশে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারতের দুটি ভিন্ন স্বাদের রেস্তোরাঁ। তালিকায় ২৬ নম্বর স্থানটি দখল করেছে মুম্বইয়ের নামী রেস্তোরাঁ ‘মাস্ক’ (Masque) এবং ৪৯ নম্বরে রয়েছে হিমাচল প্রদেশের কসৌলির ‘নার’ (Naar)।

মুম্বইয়ের ‘মাস্ক’: টেক্সটাইল মিল থেকে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে

২০২৬ সালের এই বিশ্বসেরা তালিকায় প্রথমবার এন্ট্রি নিয়েই হইচই ফেলে দিয়েছে মুম্বইয়ের মাস্ক। ২০১৬ সালে পথচলা শুরু করা এই রেস্তোরাঁর মূল চালিকাশক্তি হলেন হেড শেফ বরুণ টোটলানি। প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই কমিস শেফ হিসেবে দলে যোগ দেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে সুস শেফ এবং ২০২২ সালে প্রতীক সাধুর কাছ থেকে হেড শেফের দায়িত্ব বুঝে নেন বরুণ।

তাঁর জাদুকরি ছোঁয়াতেই মাস্কের মেনু এখন অনেক বেশি দুঃসাহসী, আধুনিক এবং কৌতুকপ্রিয়। এখানকার রান্নায় অনুপ্রেরণা জোগায় চেনা ভারতীয় খাবার ও নিখাদ আঞ্চলিক উপকরণ। যেমন তাঁদের বিখ্যাত ‘সিউইড ও পোঙ্ক ভেল’। জনপ্রিয় এই স্ট্রিট ফুড ভেলকে এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে গোয়ার সামুদ্রিক শৈবাল এবং গুজরাটের বিশেষ কচি জোয়ার পোঙ্ক।

মুম্বইয়ের ব্যস্ত মহালক্ষ্মী এলাকার একটি সংস্কার করা পুরনো টেক্সটাইল মিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই রেস্তোরাঁ। প্রাচীন ভবনের সেই র-ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা শিল্প-ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ সম্মান জানিয়েই সাজানো হয়েছে এর চোখধাঁধানো অন্দরমহল।

হিমাচলের ‘নার’: পাহাড়ের কোলে বিশ্বজয়

অন্যদিকে, তালিকার ৪৯ নম্বরে থাকা হিমাচলের ‘নার’ রেস্তোরাঁটি জিতেছে অন্য এক কারণে। এই রেস্তোরাঁর নেতৃত্বে রয়েছেন খ্যাতনামা শেফ প্রতীক সাধু। স্থানীয় খাঁটি উপকরণ ব্যবহার, স্থানীয় গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে রান্নার পদ্ধতি বজায় রাখার জন্য নার অর্জন করে নিয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘সাসটেইনেবল রেস্টুরেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’।

হিমালয়ের পাদদেশে পাইন বনের ঘন ঘেরাটোপে অবস্থিত নারে পৌঁছনো মাত্রই এক বিশাল রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সূচনা হয়। চণ্ডীগড় থেকে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে গাড়িতে করে প্রায় ৯০ মিনিটের দূরত্বে এটি অবস্থিত। রেস্তোরাঁর চত্বর থেকে চারপাশে তাকালেই চোখে পড়ে সুউচ্চ পাহাড়ের সারি আর উপত্যকার অন্তহীন বিস্তীর্ণ দৃশ্য।

এখানকার মাল্টি-কোর্স টেস্টিং মেনু সাজানো হয়েছে হিমালয়ের সুপ্রাচীন ছয়টি ঐতিহ্যবাহী ঋতু—অর্থাৎ প্রাক-শীত, শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এবং শরৎকে কেন্দ্র করে। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে নিপুণভাবে বদলে যায় এখানকার মেনু, যেখানে প্রতিবারই ফুটে ওঠে সেই নির্দিষ্ট সময়ের তাজা প্রকৃতি, স্থানীয় ফসল এবং সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *