২২ বছর বয়সেই ইতিহাস! টেস্টের কাপ্তানি পেতেই ব্যাট হাতে যা করলেন জিম্বাবুয়ের তরুণ, দেখে চোখ কপালে উঠবে

মাত্র ২২ বছর বয়সে দেশের টেস্ট দলের নেতৃত্ব পাওয়ার সম্মান যেকোনো ক্রিকেটারের কেরিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। আর সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েই যদি ব্যাট হাতে মাঠে নামার প্রথম সুযোগেই রূপকথার মতো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেলা যায়, তবে তা সোনায় সোহাগা। জিম্বাবুয়ের তরুণ ব্যাটার ব্রায়ন ব্যানেট (Brian Bennett) আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট ম্যাচে ঠিক এমনই এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
শারজাহতে চলতি এই টেস্ট ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ব্রায়ন। দলের নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগরাভা চোটের কারণে এই সিরিজে বাইরে থাকায়, সহ-অধিনায়ক ব্রায়ানকে এই বিরাট দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে ডানহাতি এই তরুণ ব্যাটার প্রথমবার অধিনায়কত্ব করতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচটিকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা স্মারক করে তুললেন।
দারুণ পার্টনারশিপ ও সেঞ্চুরির মারকাটারি ইনিংস
ম্যাচের প্রথম দিনেই ব্যাট হাতে উইকেটে নেমে পড়েন ব্রায়ন। অভিজ্ঞ ব্র্যান্ডন টেলরের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি গড়েন দারুণ এক ১৩৭ রানের পার্টনারশিপ। টেলর নিজের শতরান পূর্ণ করার পর প্যাভিলিয়নে ফিরলেও, অবিচল ছিলেন ব্রায়ন। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে নিজের ইনিংসকে আরও পরিপক্ব করে তিনি কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরির গণ্ডি টপকে যান। অধিনায়ক হিসেবে এটি তাঁর প্রথম এবং টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় শতরান।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এটি ব্রায়নের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাঁর একটি দুর্দান্ত শতরানের রেকর্ড রয়েছে। ব্রায়নের এই লড়াকু ও দায়িত্বপূর্ণ ইনিংসের ওপর ভর করেই জিম্বাবুয়ে দল প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হয়। এই ইনিংসে তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন ওয়েসলি মধেভেলে, যিনি একটি চোখ ধাঁধানো অর্ধশতরান করার পাশাপাশি ব্রায়নের সাথে ৯৬ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন।
বড় রেকর্ড হাতছাড়া হলেও স্মরণীয় ইনিংস
যদিও নিজের টেস্ট কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডটি ভাঙতে কিছুটা আক্ষেপই থেকে গেল ব্রায়নের। তিনি ১২৮ রান করে কায়েস আহমেদের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ১১টি আকর্ষণীয় চারের সাহায্যে সাজানো এই ইনিংসটি তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা তাঁর ১৩৯ রানের ইনিংসটিই এখনও পর্যন্ত তাঁর কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট স্কোর হিসেবে টিকে রয়েছে।
তরুণ এই অধিনায়কের এমন লড়াকু মানসিকতা এবং চোখ জুড়ানো ব্যাটিং পারফরম্যান্স আগামী দিনে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে যে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।