“সব কিছুতেই নাক গলায় এরা!” রণবীর-আলিয়াদের প্রজন্ম নিয়ে চরম বিস্ফোরক ফারাহ খান

আজকের নতুন প্রজন্মের তারকাদের কাজের ধরন, অতিরিক্ত দাবিদাওয়া এবং মানসিকতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি উগরে দিলেন বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক ও নৃত্যপরিচালক ফারাহ খান। সম্প্রতি নেহা ধুপিয়া এবং অঙ্গদ বেদির জনপ্রিয় টক-শো ‘ডাবল ডেট’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে হিন্দি সিনেমার বর্তমান শিল্পীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আত্মবিশ্বাসের চরম অভাব নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। ফারাহর স্পষ্ট মন্তব্য— বলিপাড়ায় ‘সুপারস্টার’ তৈরি হওয়ার সেই সোনালী অধ্যায় চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সলমন খান কিংবা অক্ষয় কুমারের মাধ্যমেই সেই মহিমান্বিত যুগের সমাপ্তি ঘটেছে।
“সব বিষয়ে নাক গলান এরা, আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব!”
এই প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফারাহ বলেন,
“আজকালকার অভিনেতাদের মূল সমস্যা হলো, তাঁদের কারও ওপর কোনো আস্থা নেই। তাঁরা পরিচালকের ওপর ভরসা রাখতে পারেন না। ছবির কোরিওগ্রাফি কীভাবে হবে, কোন গানটা অ্যালবামে রাখা হবে, এমনকি ছবিতে সহ-অভিনেতা হিসেবে কাকে কাস্ট করা হবে— সবেতেই তারা অনাবশ্যক নাক গলাতে চান! যখন নিজের মেধা ও ক্ষমতার ওপর বিন্দুমাত্র আত্মবিশ্বাস থাকে না, তখনই মানুষ এসব সস্তা নাটক করতে যায়।”
নিজের কথার সপক্ষে বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানের পেশাদারিত্বের উদাহরণ টানেন ফারাহ। তিনি জানান, শাহরুখ কোনোদিনও তাঁর ছবির কাস্টিং নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। ‘ম্যায় হুঁ না’ সিনেমার সময়ে সুস্মিতা সেন অত বড় তারকা না থাকা সত্ত্বেও ফারাহর সিদ্ধান্তে শাহরুখ পূর্ণ সম্মতি দিয়েছিলেন। এমনকি ‘ওম শান্তি ওম’-এর সময়ে একদম নতুন একটি মেয়েকে (দীপিকা পাড়ুকোন) নেওয়ার কথা বললে শাহরুখ কেবল ছবি দেখে বলেছিলেন— “তুমি যদি ওকে নিয়ে নিশ্চিত থাকো, তবে আমারও কোনো আপত্তি নেই।”
“১-২টো ছবি করেই ভাবে সব শিখে গেছে, চামচাবাজদের ঘেরাটোপে বন্দি!”
শুটিং সেটে নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনভিজ্ঞতা ও অতিরিক্ত নখরা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই সিনিয়র কোরিওগ্রাফার। তিনি বলেন,
“সেটে এসে হুটহাট চিত্রনাট্য বা দৃশ্য বদলে ফেলার কথা বলা কোনো পেশাদার অভিনেতার কাজ হতে পারে না। সেটে আসার আগে প্রপারলি নিজের ডায়লগ মুখস্থ করে আসা উচিত! আজকালকার নতুনরা সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাজটাই ঠিকঠাক করতে পারেন না, যা চরম বিরক্তিকর। ১-২টো সিনেমা করার পর বা ৫ম সিনেমায় গিয়ে এরা ভাবেন সব শিখে গেছেন। চারপাশের একদল চামচাবাজদের ঘেরাটোপে থেকে নিজেদের আসল মেজাজ ও বাস্তবজ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন তাঁরা।”
ফারাহর মতে, এখনকার শিল্পীদের মূল ধ্যানজ্ঞান থাকে বড় বড় গ্ল্যামারাস ম্যাগাজিনের কভার ফটো তোলা কিংবা বর্ণাঢ্য পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দিকে। ভালো অভিনয় বা নিষ্ঠা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করার কোনো তাগিদ তাঁদের মধ্যে দেখা যায় না।
“সলমন রবিবারেও কাজ করে, এই চার-পাঁচজনই শেষ তারকা!”
ফারাহর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সলমন খান বা অক্ষয় কুমারদের এই অভাবনীয় সাফল্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। কাজের প্রতি তাঁদের সততা ও চরম নিষ্ঠাই তাঁদের এই উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ৩-৪ দশক অতিক্রম করার পরেও তাঁরা প্রথম দিনের মতোই খাটেন। সলমন খানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সলমন কোনোদিন ছুটির অজুহাত দেয় না, এমনকি রবিবারেও শুটিং করতে বললে হাসিমুখে কাজ করে।”
আক্ষেপের সুরে ফারাহ যোগ করেন, “আসল সুপারস্টারদের জামানা শেষ। এরা ৪-৫ জনই বলিপাড়ার শেষ প্রজন্মের আসল তারকা। যতদিন তাঁরা কাজ করছেন, দর্শক হিসেবে তাঁদের কাজ উপভোগ করে নিন।”
পরিচালনায় ফেরা নিয়ে নিজের স্পষ্ট শর্তের কথা জানান ফারাহ। তিনি জানান, তাঁর সন্তানেরা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষের দিকে তিনি পরবর্তী ছবির কাজ শুরু করবেন। তবে সেখানেও রয়েছে এক বড় শর্ত— সিনেমাটি তিনি তখনই পরিচালনা করবেন, যদি তাতে প্রধান চরিত্রে থাকেন স্বয়ং শাহরুখ খান। নয়তো আবারও কয়েক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই!