পুলিশের চাকরি পেতে ভুয়া শংসাপত্রের রমরমা কারবার! ফাঁস করতেই রহস্যজনকভাবে উদ্ধার প্রতিবাদী যুবকের ঝুলন্ত দেহ

পুলিশের লোভনীয় চাকরি পাওয়ার আশায় খেলাধুলোর ভুয়ো শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট তৈরি করার একটি বড়সড় চক্র রমরমিয়ে চালিয়ে যাচ্ছিল একদল প্রতারক। সেই জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করতে গিয়েই বড় বিপদে পড়েন এক সচেতন যুবক। শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের বीड (Beed) জেলার ইমামপুর গ্রাম থেকে ২৬ বছর বয়সি ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। এই রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম বৈভব চহ্বান। যে ইমামপুর গ্রাম থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি আদতে সেই গ্রামের বাসিন্দা নন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (Accidental Death Report) রুজু করেছে এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে।

চক্রের হদিশ পেতেই কি মর্মান্তিক পরিণতি?
মৃত যুবকের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে খেলাধুলোর ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রির এই চক্রটির কথা পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছিলেন বৈভব। এমনকি এই চক্রের প্রতারণা রুখতে তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

তবে পুলিশের দাবি, বৈভব এই জালিয়াতি চক্র নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রামীণ থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে মৌখিকভাবে খবর এসেছে যে বৈভব ভুয়ো শংসাপত্র চক্রের বিরুদ্ধে আগে একবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।”

পুনে পুলিশের সেই মেগা জালিয়াতির যোগসূত্র?
উল্লেখ্য, এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে পুনে পুলিশ খেলার ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির একটি বিশাল চক্রের সন্ধান পেয়েছিল। সেই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছিল যে, একটি নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের নাম ভাঙিয়ে ১০০০-টিরও বেশি জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে মোটা টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এমনকী, রাজ্যস্তরের সেই টুর্নামেন্টের সমস্ত তথ্য জাল করে এমন সব প্রতিযোগিতার নাম শংসাপত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল, যেগুলি বাস্তবে কখনই আয়োজিতই হয়নি।

তদন্তে নেমে অন্তত ৬০ জন এমন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ, যাঁরা এই ধরনের ভুয়া ও জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে সরাসরি সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই মেগা জালিয়াতি মামলার সঙ্গেই বৈভবের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *