পুলিশকে তাক করে ২৪ রাউন্ড গুলি! পাটনায় যৌথ বাহিনীর পাল্টা এনকাউন্টারে খতম ৩ কুখ্যাত গ্যাংস্টার

বিহারে দুষ্কৃতী দমন অভিযানে নেমে যৌথ বাহিনীর বড়সড় সাফল্য। বিহারের পাটনা ও ভোজপুর জেলায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক দুটি গুলির লড়াই বা এনকাউন্টারের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন সন্দেহভাজন কুখ্যাত দুষ্কৃতীর এবং গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক অভিযুক্ত। শুক্রবার ভোরে পাটনার মানের (Maner) থানা এলাকার শেরপুরে এই হাড়হিম করা এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোনো একটি বড়সড় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে একদল দুষ্কৃতী শেরপুর এলাকায় জড়ো হয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিল প্রশাসন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং জেলা পুলিশের এক যৌথ বাহিনী ওই অঞ্চলে তল্লাশি ও টহলদারি অভিযান শুরু করে। পুলিশ বাহিনীকে দেখতে পেয়েই আচমকা চরম আগ্রাসী হয়ে ওঠে দুষ্কৃতীরা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
২৪ রাউন্ড গুলির পাল্টা জওয়াব! বেঁচে গেলেন মানের ওসি
দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলির জবাবে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় যৌথ বাহিনীও। পাটনার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) কার্তিকেয় শর্মা জানান, পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে তিন দুষ্কৃতী গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই এনকাউন্টার চলাকালীন অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা পেয়েছে মানের থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের (OC)। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া একটি মারাত্মক গুলি তাঁর পোশাক ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এসএসপি কার্তিকেয় শর্মা জানান, এনকাউন্টার চলাকালীন দুষ্কৃতীরা প্রায় ২৪ রাউন্ডেরও বেশি গুলি চালিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষায় পুলিশ মোট ১৮ রাউন্ড পাল্টা গুলি চালায়।
পুলিশের দাবি, নিহত এই তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে দানাপুর, শাহপুর-সহ আশেপাশের একাধিক থানায় একাধিক মারাত্মক অপরাধমূলক মামলা ঝুলছিল। গত মাসেই মানের এলাকায় এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনাতেও এরা সরাসরি যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোজপুরেও এনকাউন্টার: পায়ে গুলি নিয়ে হাসপাতালে পবন যাদব
অন্যদিকে, শুক্রবার ভোজপুর জেলাতেও ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতীর এনকাউন্টারের খবর মিলেছে। অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস আধিকারিক, ৬৮ বছর বয়সি রামকুমার সিংকে নৃসংসভাবে খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত পবন যাদব পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে। সারংপুর গ্রামের কাছে এই গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে।
ভোজপুরের পুলিশ সুপার অবধেশ দীক্ষিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় পবন যাদব পুলিশকে লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালায়। পুলিশ আধিকারিকেরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে একটি গুলি পবনের পায়ে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
একই দিনে পর পর দুটি এনকাউন্টারের ঘটনায় সমগ্র বিহার জুড়ে অপরাধীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।