থানার সামনেই ফিল্মি কায়দায় মারধর! মুদির দোকান থেকে তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় হাওড়ায় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

মুদির দোকান থেকে জোর করে তোলা আদায়ের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল হাওড়ার বাঁকড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায়। তোলাবাজদের প্রতিবাদ করায় দোকানের মালিক থেকে শুরু করে ক্রেতা— কেউই রেহাই পাননি দুষ্কৃতীদের হাত থেকে। শুধু তাই নয়, আহত অবস্থায় আক্রান্তরা যখন চিকিৎসার পর থানা অভিমুখে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ডোমজুড় থানার সামনে রাস্তায় ফেলে তাঁদের ওপর দ্বিতীয় দফায় চড়াও হয় অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় এক মহিলাসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ (RAF)।

ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁকড়া পশ্চিমপাড়ার একটি মুদির দোকানে খদ্দেরের বেশে একদল স্থানীয় দুষ্কৃতী চড়াও হয়। প্রথমে তারা দোকান থেকে দেশলাই কিনতে চায় এবং এরপরেই মুদি দোকানদারের কাছে জোর করে টাকা বা তোলা দাবি করে। দোকানের মালিক ও তাঁর ছেলে সেই তোলা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দুষ্কৃতীরা। এরপর বাবা ও ছেলের ওপর বেধড়ক মারধর চালানো হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে দোকানের ক্রেতারাও আক্রান্ত হন।

এই অতর্কিত হামলায় এক মহিলাসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

থানার সামনেই ফের মারধরের অভিযোগ!
হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেরে আক্রান্তরা যখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডোমজুড় থানার দিকে রওনা হন, তখনই ঘটে আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, থানার ঠিক কাছাকাছি আসতেই রাস্তা আটকে ওই দুষ্কৃতীরা ফের তাদের ওপর চড়াও হয় এবং রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিরাট পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় লাঠিচার্জ করে, যার ফলে এলাকায় হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই তোলাবাজ দুষ্কৃতীদের প্রবল দাপট চলছে এবং সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সম্পূর্ণ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে ডোমজুড় থানার পুলিশ। অপরাধীদের ধরতে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *