“ইনসেনটিভ বন্ধের পেছনেই ছিল গণ্ডগোল!” মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী, জানালেন নতুন কৌশলের কথা

রাজ্যে নতুন শিল্প এবং বিপুল বিনিয়োগ টানতে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত মিলল প্রশাসনের তরফ থেকে। শিল্পপতিদের উৎসাহিত করতে আবারও ‘ইনসেনটিভ’ (Incentive Scheme) নীতি জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে আপাতত প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এই খাতে খরচ কীভাবে পরিচালনা করা হবে এবং রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ কীভাবে উন্নত করা সম্ভব, তা নিয়ে সম্প্রতি এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিশদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
সাধারণত ইনসেনটিভ স্কিমের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা উৎপাদনকারীকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক উৎসাহ বা পুরষ্কার দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য থাকে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং শিল্পে গতি আনা। তবে মাঝের কিছুটা সময় এই ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন ঘটেছিল। এবার সেই প্রক্রিয়াকেই নতুন করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টাকার উৎস এবং পুরনো আইনি জট নিয়ে প্রশ্ন
ভবিষ্যতের বড় আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী জানান, “প্রথম ধাপের কাজের জন্য আমরা প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। তবে এই প্রকল্পের মূল খরচের চাপটা আসতে পারে আগামী অর্থবর্ষ থেকে।”
একই সঙ্গে পূর্বতন প্রশাসনের ইনসেনটিভ সংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, “আগে যে ইনসেনটিভ চালু করেও পরবর্তীতে নতুন আইন এনে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেই আইনের বৈধতা নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়েছে। এর ফলে যে আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে, তা সামলানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার লায়াবিলিটি বা দায় জমে রয়েছে। সেটাকে কীভাবে সুরাহা করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।”
রাজ্যের ভাবমূর্তি ও সঠিক পরিবেশ গড়ার ওপর জোর
বিদেশে গিয়ে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, শুধু প্রচার করলেই হবে না, মূল সমস্যাটা কোথায় তা চিনতে হবে। তাঁর কথায়, “বাইরে বাংলা সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করেন এখানে কোনো বড় কাজ হওয়া কঠিন বা ঝামেলার পরিবেশ রয়েছে। কোথায় কে বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে কিংবা কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে কি না—সেগুলো আমাদের নজরে রাখতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনো সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনা বাকি। প্রশাসন ও দল—উভয় স্তরেই আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানে নতুন ব্যবসা আনতে হলে প্রথম শর্ত হলো সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।”
শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা
রাজ্যে শিল্প সম্মেলনের আবহে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে এর আগে বলা হয়েছিল, রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করাই মূল লক্ষ্য। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইনসেনটিভ নীতিকে নতুন করে সাজিয়ে রাজ্যের সার্বিক আর্থিক পরিকাঠামোকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই নতুন নীতি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর ব্যবসায়ী মহলের।