৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ইনসেনটিভ দেওয়া সম্ভব নয়! শিল্পের নতুন নীতি ঘোষণা করতেই বিরাট বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

শিল্প ও লগ্নির ক্ষেত্রে অতীতের সমস্ত জমানার জট কাটিয়ে এবার একেবারে নতুন পথে হাঁটার ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নিউটাউনের ইকো পার্কের ‘উৎসারী’ সভাগৃহে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি সরকারের নতুন শিল্পনীতির প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ইনসেনটিভের বোঝা এই মুহূর্তে বহন করার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই রাজ্যের।

৫০ হাজার কোটির বকেয়া ও পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

এদিনের সভামঞ্চ থেকে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার যদি প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা দিত, তবে আজ ৫০ হাজার কোটি টাকার ইনসেনটিভ ব্যাকলগ তৈরিই হতো না।

নীতিগত উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের চলতে দিন। একটা গভর্মেন্ট আসবে, একটা যাবে। নীতিগতভাবে এটা একটা উত্তরাধিকার ব্যবস্থা। আগের সরকার কিছু করে গেলে পরের সরকার সেটাকে অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বোঝা বহন করার অবস্থায় আমরা নেই।” তবে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে গুজরাত, মহারাষ্ট্র বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির মতো করেই এই বকেয়া মেটানোর কথা ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জমি অধিগ্রহণ নীতি ও বিজিবিএস (BGBS) সম্মেলন নিয়ে কড়া আক্রমণ

অতীতে বাম আমলের নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর পর্বের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং পরবর্তী তৃণমূল জমানার জমি নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর মতো কোনো ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে চালু নীতি অর্থাৎ “সরকার শুধু নীতি দেবে, জমি কিনে নেওয়ার দায়িত্ব শিল্পপতির”—এই জমানারও অবসান ঘটানো হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে এবার রাজ্য সরকার ল্যান্ড পুলিং (Land Pooling) এবং ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর পথে হাঁটছে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। নতুন নীতি অনুযায়ী—

  • জমিদাতাদের উন্নত জমির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।

  • সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে তাদের অংশীদারি নিশ্চিত করা হবে।

  • কারখানার কাজে অদক্ষ স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

  • এছাড়া, যেসব শিল্পসংস্থা দীর্ঘদিন ধরে জমি ফেলে রেখেছে, তাদের জন্য মাত্র ৩ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS)-কে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মোট আটটি সংস্করণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা খরচ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারি স্কুল ও হাসপাতালের মতো পরিকাঠামোকেও বিনিয়োগ হিসেবে দেখানোর জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে তোপ দাগেন তিনি।

কর্মসংস্থান ও ‘কর্মযোগী’ প্রকল্প

রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে পানাগড়, হরিণঘাটা, শালবনী এবং রঘুনাথপুরে একাধিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ভিনরাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যের অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি কম থাকায় পরিযায়ী হওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা দূর করতে রাজ্য সরকার নতুন ‘কর্মযোগী’ প্রকল্প চালু করছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিশেষে শিল্পমহলকে বার্তা দিয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, নির্বাচনী ইস্তাহার বা সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বর্তমান সরকার।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *