বড়দিনের আগেই ফলাফল, জানুয়ারিতে নতুন বোর্ড! শীতের আমেজে পুরভোট নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিরাট তোলপাড়

নভেম্বরের শেষে নয়, রাজকীয় মেজাজে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত পুরসভা নির্বাচন! প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আইনি জটিলতা কাটিয়ে সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০ ডিসেম্বর বা তার কাছাকাছি সময়েই আয়োজন হতে পারে ভোটের মহাযজ্ঞ। বড়দিন অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বরের আগেই ভোটের ফলাফল প্রকাশ এবং নতুন বছরের শুরুতেই জানুয়ারি মাসে পুরসভার নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি চলছে দ্রুত গতিতে।

কালীপুজোর ছুটির আমেজ মিটলেই যেকোনো দিন রাজ্যা নির্বাচন কমিশন পুরভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। এমনকি ভোটের প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক না রেখে চলতি নভেম্বরের ১৫ বা ১৬ তারিখের মধ্যেই নিজেদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি।

মহাজোটের জোড়াতালি? ফিরছে বহুচর্চিত ‘শিলিগুড়ি মডেল’!

ভোটের দিনক্ষণ সামনে আসার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন অংকের জল্পনা উস্কে দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। ২০১৫ সালে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা ঐতিহাসিক ‘শিলিগুড়ি মডেল’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা সময় এসেছে।”

এই একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিআইএমের শীর্ষ নেতা অশোক ভট্টাচার্যের গলাতেও। তাঁর সাফ দাবি, “পুরসভা, পঞ্চায়েত, বিধানসভা কিংবা লোকসভা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের প্রধান শত্রু বিজেপি। ওদের হারানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য, আর তাই বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।”

বিজয়ের খতিয়ান নাকি ব্যর্থ জল্পনা?

তবে প্রায় ১১ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক মানচিত্রে বাম-তৃণমূলের এই পরোক্ষ সমঝোতা জল্পনাকে একেবারেই আমল দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য, বিগত দিনের সব কাল্পনিক ‘মডেল’ সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং রাজ্য রাজনীতিতে আসন বাঁচাতে বাম-তৃণমূল যে জোট বাঁধতে চাইছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। আর এতে বিজেপির জয়রথ আটকানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তাঁরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *