দীপাবলিতে নিষিদ্ধ বাজি ফাটালেই সোজা জেল! লালবাজারের বড় অভিযানে অটোর ভেতর নজরদারি, জামিন মেলাও অসম্ভব?

দীপাবলিতে (Diwali 2026) নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি, মজুত এবং রাতভর নিয়ম ভেঙে বাজির তাণ্ডব রুখতে এবার চূড়ান্ত কঠোর অবস্থান নিল লালবাজার। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত বহুতল আবাসন—সর্বত্র বেআইনি বাজির দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আগেভাগেই ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। দীপাবলির ঠিক ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে শহরের ছোট ছোট বাজারগুলিতে বেআইনি বাজির কারবার জমে ওঠে। এই ছক ভাঙতে এবার শহরজুড়ে আকস্মিক তল্লাশি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।

লালবাজারের তরফে শহরের সমস্ত থানাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার আর কোনো ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না।

বাইকের পাশাপাশি অটোতেও চলবে কড়া সার্চ অপারেশন

কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, কালীপুজোর দিনে সাধারণত নিষিদ্ধ ও বেআইনি বাজি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাচার বা পরিবহনের জন্য ভাড়ার অটো ব্যবহার করা হয়। এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে এবার পুলিশের বিশেষ নজরদারি দল শুধু মোটরবাইক নয়, শহরের সমস্ত রুটের অটোর ওপরও নজরদারি চালাবে।

এক যুগ্ম কমিশনার জানিয়েছেন, উৎসবের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই ছোট ছোট বাজার ও খোলা দোকানে ঝটিকা অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় বিক্রি হওয়া অরক্ষিত বাজিগুলির অধিকাংশই বেআইনি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুদামে তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি বাজি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বহুতল আবাসনের জন্য তৈরি পৃথক স্পেশাল পুলিশ টিম

বুধবার এসপ্ল্যানেডের বাজি বাজার পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্পষ্ট জানান, বহুতল আবাসনগুলিতে বাজি সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য একটি পৃথক ডেডিকেটেড পুলিশ টিম তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, বহুতল আবাসন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে। ওই নির্দিষ্ট পুলিশ টিম নজর রাখবে যাতে আবাসনের বাসিন্দারা নির্ধারিত সময়ের বাইরে কিংবা পরিবেশ-দূষণকারী নন-গ্রিন বাজি না ফাটান।

থানা থেকে মিলবে না জামিন, যেতে হতে পারে ৩ বছরের জেলে!

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ গ্রিন-বাইজ বহির্ভূত বাজি ফাটালে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বাজি পোড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে কড়া আইনি ধারা। সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অপরাধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র প্রাসঙ্গিক ধারার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ আইনের বেআইনি বাজি সংক্রান্ত বিশেষ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

  • থানায় জামিন অযোগ্য অপরাধ: দক্ষিণ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী অভিযুক্তকে থানা থেকে জামিন দেওয়া হবে না। তাঁকে সরাসরি আদালতে পেশ করা হবে এবং আদালত থেকেই জামিনের আবেদন করতে হবে।

  • ৩ বছরের কারাদণ্ড: অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত মারাত্মক হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে Explosive Substances Act-এ মামলা রুজু করা হতে পারে। এই আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

  • বিএনএস ও আইপিসি ধারা: এ ছাড়া সরকারি নির্দেশ না মানার অপরাধে বিএনএস-এর পাশাপাশি পূর্ববর্তী আইনের ধারা অনুযায়ী আরও ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার অলআউট অভিযানে নেমেছে লালবাজার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *