এবার সরাসরি চিনের মুখোমুখি ভারত! দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তির ভারসাম্য বদলাতে ভারতের মেগা স্ট্রাইক

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন এবং সামরিক দাদাগিরি রুখতে ভারতের শরণাপন্ন হলো ফিলিপাইন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে ও নিজেদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে ভারতের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে দেশটি। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৬,২০০ থেকে ৭,১০০ কোটি টাকা) এই সম্ভাব্য ডিল এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে চলেছে।

১. ড্রাগনের চোখরাঙানি রুখতে ভারত থেকে ৬০টি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল
আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই মেগা চুক্তির অধীনে ফিলিপাইন ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫টি আধুনিক ব্রহ্মোস মিসাইল সিস্টেম এবং প্রায় ৬০টি হাইপার-ম্যানুভারেবল সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের নির্বিচার আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় এক বড় আঘাত হানবে ফিলিপাইনের নৌবাহিনী।

২. ২০২২ সালের চুক্তির রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস
ভারত ও ফিলিপাইনের মধ্যে হতে যাওয়া প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি ২০২২ সালের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষার চুক্তিকেও অনেক পেছনে ফেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ফিলিপাইন তাদের নৌবাহিনীর জন্য ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ভারতের কাছ থেকে ব্রহ্মোস মিসাইল সিস্টেম কিনেছিল। বর্তমানের এই নতুন চুক্তিটি তার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি অঙ্কের হতে চলেছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

৩. দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন শক্তির ভারসাম্য
বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল হিসেবে পরিচিত ব্রহ্মোসের উপস্থিতি ফিলিপাইনের উপকূলীয় নিরাপত্তাকে করবে একদম নিখুঁত। চীনের আগ্রাসী মনোভাবের মুখে দাঁড়িয়ে ফিলিপাইনের এই পদক্ষেপ ভারতের তৈরি সুপারসনিক প্রযুক্তির বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ বহন করে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ভৌগোলিক সীমান্তের ঠিক দোরগোড়ায় ভারতের এই ধরনের শক্তি বৃদ্ধি লাল চিনের ওপর এক প্রচণ্ড কূটনৈতিক ও কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *