“জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্প হারতেন না!” মার্কিন নির্বাচন নিয়ে সিজেপি নেতার বিস্ফোরক কটাক্ষে শোরগোল!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিড-টার্ম নির্বাচনে চরম ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। আমেরিকার এই রাজনৈতিক পালাবদলের পরই তার তীব্র প্রভাব পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও! মার্কিন ভোট প্রক্রিয়ার এই ফলাফলকে হাতিয়ার করে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

“জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্প হারতেন না!”—অভিজিতের শ্লেষাত্মক পোস্ট

আমেরিকায় ট্রাম্পের পরাজয়ের খবর সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ একটি অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ অথচ তীক্ষ্ণ টিপ্পনী কাটেন অভিজিৎ দিপকে। তিনি লেখেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্পের সঙ্গে এমনটা কখনওই হতে দিতেন না।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই শ্লেষাত্মক মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ভারতে চলমান নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলন। বর্তমানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং কমিশনের বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি-র পদত্যাগ ও ‘এসআইআর’ প্রত্যাহারের দাবিতে সরব বিরোধীরা। সেই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে সামনে রেখে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে বেনজির খোঁচা দিলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। যদিও বিরোধীদের এই প্রতিবাদের নীতিগত সমর্থন করলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মিছিলে পা মেলায়নি সিজেপি।

কেন ট্রাম্পের এই বিপর্যয়?

আমেরিকার এই মিড-টার্ম নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কাজের ওপর একপ্রকার গণভোট বা রেফারেন্ডাম হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি, জীবিকা নির্বাহের লাগামছাড়া খরচ, অভিবাসন নীতি এবং বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন উত্তেজনার জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন মার্কিন ভোটাররা। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের এই হার স্বীকার করে নিয়েছেন এবং দেশের স্বার্থে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের হারে উল্লাস তেহরানে

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের এই বিপর্যয় বিশ্ব রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। আমেরিকার এই ফলাফলের পর প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বিবেক কিংবা জীবনযাত্রার খরচ—সব দিক বিবেচনা করেই মার্কিন জনগণ যুদ্ধকে স্পষ্ট ‘না’ বলে দিয়েছে। আমরা আমেরিকানদের এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তিনি যোগ করেছেন, জনগণের এই রায়কে অগ্রাহ্য করলে আমেরিকার জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

সব মিলিয়ে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই নাটকীয় ফলাফল কেবল ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যই ওলটপালট করল না, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে তেহরানের কূটনৈতিক মঞ্চ পর্যন্ত সর্বত্র এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *