“দাদা বকাঝকা করতেই খালের জলে ঝাঁপ!” পডাশোনার আতঙ্কে নবম শ্রেণির ছাত্রের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় হাহাকার!

উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই পড়াশোনার কঠোর চাপে পিষে গিয়ে এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার কথা বলায় দাদার সঙ্গে সামান্য অভিমান করে খালের জলে ঝাঁপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের বিরুদ্ধে। মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে সে তলিয়ে যায়। হাজারো চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ভাইকে বাঁচাতে পারেননি দাদা। এই মর্মে হরিয়ানার কার্নালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত ওই স্কুলছাত্রের কোনো সন্ধান মেলেনি।
ঠিক কী ঘটেছিল কার্নালে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার কার্নাল জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ হওয়া ১৫ বছর বয়সি ওই স্কুলছাত্রের নাম প্রিন্স।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বাড়িতে পড়াশোনা ও উৎসবের ছুটি শেষ হওয়া নিয়ে তুমুল অশান্তি হয়েছিল। প্রিন্সের দাদা তাকে কড়া ভাষায় বকাঝকা করেন এবং পড়াশোনায় মন বসাতে বলেন। এই সামান্য বকুনিতেই চরম অভিমানে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় প্রিন্স।
ভাইকে এভাবে রাগ করে বেরিয়ে যেতে দেখে তার পিছনেই ছুটে যান দাদা সোনু। খালের কাছে পৌঁছানোর পর তিনি প্রিন্সকে আটকানোরও চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দাদার হাত ফসকে আচমকাই গভীর খালের জলে পড়ে যায় প্রিন্স। চোখের পলকে সে জলের স্রোতে তলিয়ে যায়।
এখনও চলছে উদ্ধারকাজ ও ডুবুরিদের তল্লাশি
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত ওই খালে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এরপর বুধবার সকালেও নতুন করে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে পুলিশ ও ডুবুরির দল। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ কিশোরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আগেও এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা!
উল্লেখ্য, এর আগেও এমন মর্মান্তিক অভিমানের ঘটনা দেশজুড়ে নাড়া দিয়েছিল। গত বছর হিমাচল প্রদেশের হামিরপুর জেলায় কার্টুন দেখাকে কেন্দ্র করে মায়ের বকুনি খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল মাত্র সাত বছরের এক নাবালিকা। যদিও স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ ও তল্লাশি চালিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। কিন্তু কার্নালের এই সাম্প্রতিক ঘটনায় ছাত্রটির পরিণতি ঘিরে গোটা এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।