“আপনি ভুল নম্বর ডায়াল করেছেন!” এসসি-এসটি আসন সংরক্ষণ মামলায় আবেদনকারীকে সুপ্রিম কোর্টের চরম কৌতুকপূর্ণ কটাক্ষ!

সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নির্ধারিত তপশিলি জাতি (SC) এবং তপশিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত আসনগুলির মেয়াদ ও পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলা (PIL) সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুনানিমঞ্চে মামলার তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত রসিকতার সুরে আবেদনকারীর আইনজীবীকে বলেন যে তিনি যেন “ভুল নম্বর ডায়াল করেছেন”!

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচারবিভাগীয় এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে আদালত গণতান্ত্রিক পছন্দের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

কী ছিল এই মামলার মূল পটভূমি?

উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর জেলার ১৯১ নম্বর কাদিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক ভোটার জগদীশ সিং এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর মূল যুক্তি ছিল:

  • ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন থেকে শুরু করে টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কাদিপুর আসনটি শুধুমাত্র তপশিলি জাতির (SC) জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

  • এর ফলে মাত্র চার থেকে পাঁচটি নির্দিষ্ট পরিবারই বংশপরম্পরায় রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করে চলেছে।

  • পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনের মতো বিধানসভা আসনেও সংরক্ষিত ক্ষেত্রগুলির ক্ষেত্রে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহারের (Rotation System) নিয়ম চালুর দাবি জানান তিনি। আবেদনকারীর দাবি ছিল, এই রোটেশন না থাকলে সংবিধানের ১৪, ১৫ এবং ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের অধিকার খর্ব হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির রসিকতা ও আইনজীবীর মজার জবাব

শুনানিমঞ্চে মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত হাসিমুখেই আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনি ভুল নম্বর ডায়াল করেছেন। এটা তো বিক্ষোভ ও আন্দোলনের যুগ। আদালতের কড়া না নেড়ে আপনার বরং রাজপথে নেমে আন্দোলন করা উচিত ছিল!”

প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আবেদনকারীর আইনজীবীও তাৎক্ষণিকভাবে রসিকতার সুরে জানান যে, রাজপথে নেমে আন্দোলন করার কোনো ইচ্ছা তাঁর মক্কেলের নেই এবং এই মুহূর্তে তাঁর গলাও ভাঙা রয়েছে!

“ভোট সবসময় জাতির ভিত্তিতে হয় না”: সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

যদিও আইনজীবীদের হাস্যরসের মাঝেই মামলার আইনগত দিক নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী শুনানির সময় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন,

“গণতন্ত্রে ভোটদান সবসময় কেবল জাতির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে—এমন অনুমান করে নেওয়া সম্পূর্ণ ভুল। আদালত কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক পছন্দের ওপর নিজের বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না; সেটা সম্পূর্ণভাবে ভোটারদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”

আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, কোনো আসন নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত থাকলেও সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হয় না। একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভোটাররা সাধারণত প্রার্থীর জাত বা ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক দলের ভাবাদর্শের ওপর ভিত্তি করেই ভোট দেন। তাছাড়া, কেউ চাইলে অন্য যেকোনো অসংরক্ষিত আসন থেকেও নির্বাচনে লড়তে পারেন।

সব দিক বিবেচনা করে এসসি-এসটি সংরক্ষিত আসনগুলিতে রোটেশন চালুর এই জনস্বার্থ মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *