মোদী হটাও এজেন্ডা ফ্লপ? কেজরিওয়ালকে বিজেপির ‘বি-টিম’ আখ্যা দিয়ে বিষোদ্গার খাড়গের, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজয়রথ থামাতে গঠিত ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের অন্দরের ফাটল এবার প্রকাশ্যে চলে এল। জোটের অন্যতম শরিক দল আম আদমি পার্টি (AAP) এবং তার প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও সুর চড়ানো আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)।

পাঞ্জাবের সাংগ্রুরে আয়োজিত ‘ইনসাফ র‍্যালি’-তে দাঁড়িয়ে খাড়গে স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর ৬০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঞ্জাবের বর্তমান আপ সরকারের মতো চরম দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার তিনি আর একটিও দেখেননি। দিল্লির পর এবার আপ নেতৃত্ব গোটা পাঞ্জাব রাজ্যকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে কড়া তোপ দাগেন তিনি।

‘দিল্লির সর্দার ও বি-টিম’ কটাক্ষ:

র‍্যালিতে ভাষণ দিতে গিয়ে পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে কাটমানি ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন খাড়গে। তিনি বলেন, “দিল্লির সর্দার পাঞ্জাবের প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রেখেছে। এখান থেকে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করে সেই টাকা সরাসরি দিল্লিতে পাচার করা হচ্ছে। আর সেই টাকা দিয়েই কংগ্রেসের পেছন থেকে ছুরি মারা হচ্ছে।” কংগ্রেস সভাপতি আরও দাবি করেন, আপ আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছে। গুজরাট, গোয়া, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস যেখানে জয়ের দোরগোড়ায় ছিল, সেখানে ভোট কেটে বিজেপির সুবিধা করে দিয়েছে আপ।

পাঞ্জাবের ভবিষ্যৎ ও ২০২৭-এর ভোট রণনীতি:

পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খাড়গে সাফ জানান, দিল্লির কোনো নেতার নির্দেশে নয়, পাঞ্জাবের ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন এ রাজ্যের জনগণই। রাজ্যে গ্যাংস্টারদের তাণ্ডব থামানো, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার এবং যুবকদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন থেকেই ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি।

ইন্ডি জোটে বাড়ল অস্বস্তি:

উল্লেখ্য, একসময় ইন্ডি জোটে কংগ্রেস ও আপ কাছাকাছি এলেও নির্বাচন কমিশনার ও এসআইআর ইস্যুতে তাদের মধ্যে আগেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে পাঞ্জাবের মসনদ দখলের লড়াইতে দুই দল মুখোমুখি দাঁড়ানোয় বিরোধীদের জোটধর্ম নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। কংগ্রেসের এই অলআউট আক্রমণের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, আগামী দিনে পাঞ্জাব তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও কংগ্রেস-আপ সমীকরণ আরও জটিল হতে চলেছে।

আপনি কি এই সংবাদের সাথে সম্পৃক্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দেখতে চান?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *