“রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি এত দরদ কেন?” লামিনে ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হতেই ভোটিং কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক ইন্ডিভিজুয়াল সম্মান ‘ব্যালন ডি’অর’ (Ballon d’Or) নিজের নামে করে নিয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। সেরা হওয়ার দৌড়ে শেষ রাউন্ডে স্প্যানিশ জাদুকর লামিনে ইয়ামাল এবং ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ছিল। কেইন শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেও এবং এমবাপে দ্বিতীয় স্থান পেলেও, তৃতীয় স্থানে থাকা ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন তীব্র বিতর্ক।
“নিজ দেশের সাংবাদিকদের জন্যই ছেলে ট্রফি পেল না!”— বিস্ফোরক ইয়ামালের বাবা: লামিনে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সরাসরি তোপ দেগেছেন স্পেনের অভ্যন্তরীণ ভোটিং ব্যবস্থার ওপর। তাঁর স্পষ্ট দাবি, স্প্যানিশ সাংবাদিকদের ভোটিং পক্ষপাতিত্বের কারণেই তাঁর ছেলের প্রাপ্য সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচনে বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত স্পোর্টস জার্নালিস্টরা ভোট দিয়ে থাকেন। স্পেন থেকে ভোট দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন বিখ্যাত ‘AS’ পত্রিকার ডিরেক্টর হোসে ফেলিক্স দিয়াজ। তিনি নিজের দেশের উদীয়মান বিস্ময় ইয়ামালকে ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে নিজের প্রথম ভোটটি দেন।
রিয়াল মাদ্রিদ প্রীতি বনাম জাতীয়তাবাদ: মুনির নাসরাউই চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “স্পেনের সাংবাদিকদের বরাবরই রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি একটা আলাদা অন্ধ ভালোবাসা কাজ করে। এমবাপে শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সি পরেন বলেই স্পেন থেকে বেশি ভোট পেয়ে গেলেন! বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের সাংবাদিকরা নিজেদের দেশের খেলোয়াড়কে সর্বাত্মক সমর্থন করলেও, স্পেনের ভোটাররাই নিজের দেশের ছেলে লামিনকে এড়িয়ে রিয়ালের খেলোয়াড়কে ভোট দিলেন। এটা কি আদৌ জাতীয়তাবাদের সঙ্গে মানানসই?”
ভোটিং বিতর্কের মধ্যেও ইতিহাস ইয়ামালের: ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত লড়াইয়ে হ্যারি কেইন প্রথম, কিলিয়ান এমবাপে দ্বিতীয় এবং লামিনে ইয়ামাল তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
তবে ট্রফি হাতছাড়া হলেও এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন তরুণ এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই টানা তিনবার ব্যালন ডি’অরের সেরা ১০-এ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি— ২০২৪ সালে অষ্টম, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় এবং ২০২৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ব ফুটবলের অনূর্ধ্ব-২১ সেরা খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত ‘কোপা ট্রফি’ (Kopa Trophy) পরপর তিনবার জেতার অভাবনীয় রেকর্ডও এখন ইয়ামালের দখলে।