বাংলাদেশের উত্তাল বস্ত্র আন্দোলনে কি বড় সুযোগ আসছে ভারতের সামনে? তু திருப்பুর ও নোয়েডার কপালে কোন সুসংবাদ?

গত ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ এবং বেতনের দাবিতে চলা রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের প্রধান শিল্প কেন্দ্রগুলি। ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলিতে শ্রমিকরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, রাস্তা অবরোধ, কারখানা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গোটা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।

কেন এই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ? শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বর্তমান বাজারদর ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাঁদের মাসিক আয় আর তাল মেলাতে পারছে না। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ১২,৫০০ টাকার স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হওয়া শ্রমিকরা এখন তাঁদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবি তুলেছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, বাড়িভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এই আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ৬ সদস্যের একটি নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও এখনও পর্যন্ত কারখানায় ফেরেনি শান্তি। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থিরতার মাঝে ইতিমধ্যে প্রায় ৯ লক্ষ ৮৭ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ ছেড়ে দিয়েছেন এবং অন্তত ৫২৯টি কারখানা বাধ্য হয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে।

আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলির অন্যতম প্রধান ভরসা। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস—এই সময়টি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পরবর্তী মরশুমের বার্ষিক অর্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ নিশ্চিত করার মোক্ষম সময়। কিন্তু এই মুহূর্তে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের পোশাক শিল্প, যা জিডিপি এবং জাতীয় রপ্তানি আয়ে এক বিশাল ধাক্কা।

ভারতের বস্ত্র শিল্পের জন্য সুযোগ নাকি চ্যালেঞ্জ? বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার দিকে কড়া নজর রাখছে প্রতিবেশী ভারত। আন্তর্জাতিক পোশাক বাজার থেকে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে ছিটকে যাওয়ায়, ভারতের তিরুপুর, বেঙ্গালুরু, নয়ডা, লুধিয়ানা ও সুরাটের মতো প্রধান বস্ত্র ও পোশাক উৎপাদন কেন্দ্রগুলির দিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির নজর ঘুরতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা অতিরিক্ত অর্ডার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগ সাময়িক হলেও বাংলাদেশের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সামগ্রিক আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে রপ্তানির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা—বর্তমানে ঢাকা প্রশাসনের সামনে এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *