উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে ৪ দিন ধরে চলছে মৃত্যুঘণ্টা? হেলিকপ্টার দিয়েও মিলছে না বাঁকুড়ার যুবকদের খোঁজ! উদ্বেগপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে এক মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল ১২ সদস্যের একটি পর্বতারোহী দল। উচ্চ হিমালয়ে আচমকা এক ভয়াল তুষারঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন ওই দলের মোট ৮ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৫ জনেরই বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায়। বাকি ৩ নিখোঁজ অভিযাত্রীর মধ্যে ২ জনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌ এবং ১ জনের বাড়ি উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশিতে। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে ততই আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে এবং পরিবারগুলিতে বাড়ছে চরম উদ্বেগ।

নিখোঁজদের পরিচয় ও বিপর্যয়ের বিবরণ:
বাঁকুড়ার যে ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তাপস বাউরী, রতন ঘোষ, রিন্টু মন্ডল এবং উদয় ঘোষের বাড়ি শালবনী গ্রামে। অপর নিখোঁজ মনোজ খাওয়াসের বাড়ি বাঁকুড়ার কেশরা গ্রামে।

জানা গিয়েছে, মোট ১২ জনের ওই ট্রেকিং দলটি উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল পর্যন্ত অভিযানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। নির্দিষ্ট দিনে গঙ্গোত্রীর বেস ক্যাম্প থেকে দলটি পাহাড়ি পথ ধরে এগোতে শুরু করে। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছাতেই আচমকা কালগ্রাসী তুষারঝড় আছড়ে পড়ে তাঁদের ওপর। তুষারঝড়ের ঝাপটায় মুহূর্তের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন সদস্যরা। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে ৪ জন সদস্য অলৌকিকভাবে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসতে পারলেও, বাকি ৮ জনের আর কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজ ও প্রতিকূল আবহাওয়া:
প্রাণে বেঁচে ফিরে আসা ৪ জন সদস্যের কাছ থেকে বিপদের খবর পাওয়া মাত্রই তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে নেমেছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। ‘উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’-র বিশেষ হেলিকপ্টারের সাহায্যে উত্তরাখণ্ড রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) একটি চৌকস দল গত দুই দিন ধরে হিমালয়ের ওই নির্দিষ্ট দুর্ঘটনাস্থলে লাগাতার তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে উচ্চ হিমালয়ে আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকা এবং ঘন ঘন তুষারপাতের কারণে বারবার ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ৮ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি।

পরিবারকে আশ্বাস ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
এদিকে বাঁকুড়ার এই যুবকদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়াতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সবরকম পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে উত্তরাখণ্ড সরকার এবং সেই রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছে। প্রশাসন এই চরম কঠিন সময়ে সম্ভাব্য সব ধরনের লজিস্টিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করবে। বাঁকুড়ার দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে রয়েছে।”

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *