“আমার কিছু হলে শাশুড়িই দায়ী!” মেসেজ পাঠিয়েই সিলিং ফ্যান থেকে ঝুললেন কোটিপতি ব্যবসায়ী পরিবারের গৃহবধূ

পুণ্যের এক নামজাদা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবারে চরম নির্যাতন ও যৌতুকের দাবির মুখে ২৯ বছর বয়সি এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। পুণের মুকুন্দ নগর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পায়েল জামব্রে পাতিল নামের ওই তরুণীর দেহ। পেশায় প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী পায়েল মৃত্যুর ঠিক আগে পরিচিতদের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তিনি স্পষ্ট লিখে যান যে তাঁর সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন তাঁর শাশুড়ি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে স্বামী অক্ষয় জামব্রে পাতিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি শাশুড়ি সহ শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও মারাত্মক নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও নিখোঁজ রহস্য:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুণে-সাতারা রোডের কাছে মুকুন্দ নগরের ফ্ল্যাটে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেই থাকতেন পায়েল। তাঁর ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ রবিবার শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা হয়, যার পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সারারাত বাড়ি না ফেরায় সোমবার সকাল থেকে তাঁর সন্ধান শুরু হয়।
পরবর্তীতে তাদের মূল আবাসনের কাছেই অন্য একটি ফাঁকা ফ্ল্যাটে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সিলিং ফ্যানের থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকারী দলের সদস্য সোয়ারগেট থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি।
ভাইয়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:
পায়েলের ভাই হৃষিকেশ পাওয়ার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও অসংবেদনশীলতার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, বোন সারারাত নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও শ্বশুরবাড়ির কেউ তাঁকে খোঁজার সামান্য উদ্যোগ পর্যন্ত নেয়নি। ভাই ও বাপের বাড়ির লোকেরা এসে চেপে ধরার পর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে তারা দাবি করে যে পায়েল পাশের একটি ফ্ল্যাটে রয়েছে। হৃষিকেশ সেখানে গিয়ে দরজা বন্ধ পেয়ে ব্যালকনি দিয়ে ভেতরে ঢুকে বোনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
প্রতি দিওয়ালিতে ১০ ভরি সোনা ও কন্যাসন্তান নিয়ে নির্যাতন:
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বিবাহের পর থেকেই ১০ ভরি সোনা দাবি করত পায়েলের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর দিওয়ালি এলেই এই সোনার জন্য তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো।
পায়েলের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে পায়েল যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন থেকেই তাঁর ওপর ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হতো। ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ পায়েল এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে, হাসপাতালেই শাশুড়ি ও পরিবারের লোকেরা তাঁর সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়ায় এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাঁরা মা ও সন্তানের কোনো দায়িত্ব নেবে না।
আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি:
অভিযোগের ভিত্তিতে সোয়ারগেট থানা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। পায়েলের স্বামী অক্ষয় জামব্রে পাতিলকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে এবং শাশুড়ি সহ পরিবারের অন্যান্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। প্রভাবশালী পরিবারের অন্দরে এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘিরে সমগ্র পুণে শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।