“আমি তখন মিস্টার ভেটো হয়ে উঠব!” মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের চরম হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

এটি সরাসরি কোনো প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন নয়, অথচ এই একটি ভোটই নির্ধারণ করে দিতে পারে আগামী দু’বছরে মার্কিন মুলুকের রাজনৈতিক চালচিত্র কেমন হবে। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections)। আর এই ভোটের ফলাফলই মূলত ঠিক করে দেবে যে আগামী দিনে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাব কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে। ঠিক এমন এক উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলে সরাসরি ডেমোক্র্যাট শিবিরকে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
“সবকিছু নষ্ট করতে দেব না, আমি হব মিস্টার ভেটো”: সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক কৌশলের কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়, তবে তিনি কীভাবে তাদের মোকাবিলা করবেন?
এই প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত কড়া সুরে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় আমি তখন ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠব! ডেমোক্র্যাটরা চাইলেই আমি তাদের সবকিছু নষ্ট করে দিতে দেব না।” নিজের রণকৌশল ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে সমস্ত বিল তাঁর কাছে পাঠানো হবে, তিনি একে একে সেগুলি প্রত্যাখ্যান করবেন। প্রয়োজনে লাগাতার ভেটো (Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য, “ওরা হয়তো একের পর এক প্রস্তাব পাঠাবে, আর আমি তাতে ভেটো দিতে থাকব। এভাবে এক-দু’মাস বারবার ভেটো পাওয়ার ব্যবহারের পর—যখন তারা বুঝতে পারবে যে এতে কেবল সময় নষ্ট হচ্ছে—তখন তারা বাধ্য হয়ে আলোচনার জন্য এগিয়ে আসবে এবং আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।” মার্কিন রাজনীতিতে দুই প্রধান দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের এই ধরনের সমঝোতা নতুন কিছু নয় দাবি করে তিনি বলেন, অতীতেও এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে।
হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা যদি নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না করি—যদিও আমার পূর্ণ বিশ্বাস আমরা ভালো করব—তবুও বলছি, যদি আমরা জয়ী নাও হই, তবে আমি ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি বিলে ভেটো দেব। আমি কেবল ভেটোই দিতে থাকব।”
ভেটো ক্ষমতার ইতিহাস ও তৃতীয় মেয়াদের জল্পনা: উল্লেখ্য, মার্কিন শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র। এর অর্থ হলো, কংগ্রেসের পাস করা কোনো বিলকে প্রেসিডেন্ট সরাসরি প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করতে পারেন। তবে কংগ্রেসের হাতেও ক্ষমতা থাকে—যদি প্রতিনিধি সভা (House) এবং সিনেট (Senate)—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ওই আইনের পক্ষে ভোট দেন, তবে তারা প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল (Override) করতে পারে। জানা গিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর বর্তমান দ্বিতীয় মেয়াদে এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’বার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, যেখানে তাঁর প্রথম মেয়াদে এই ক্ষমতা ১০ বার ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
এদিকে, এই সাক্ষাৎকারের সময় ট্রাম্পের তৃতীয়বারের মতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা উস্কে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুযোগ পেলে আমি আবারও প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চাইতাম, তবে এ সংক্রান্ত সংবিধানের নিয়ম অত্যন্ত কঠোর।” তিনি মূলত মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করছিলেন, যা সাফ জানিয়ে দেয় যে কোনো ব্যক্তি জীবনে দুবারের বেশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করতে পারেন না।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান ও ‘ভেটো’ তত্ত্ব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।