বিদেশি পর্যটক থেকে চিকিৎসা পরিষেবা—অমিত শাহের বড় নির্দেশ! ২০২৭-এর মধ্যে পাল্টে যাচ্ছে দেশের ব্যবস্থা

ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকদের পরিষেবা, আইনি জটিলতা নিরসন ও সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজধানীতে ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ বা এফআরআরও (FRRO) তৈরি করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শিতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই বিদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের সহায়তায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করার এই মেগা রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশজুড়ে বাড়ছে FRRO-র সংখ্যা, স্বাবলম্বী হচ্ছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো: সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষার তাগিদে ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরা যাতে কোনো ঝঞ্ঝাট ছাড়াই সমস্ত আইনি ও কনস্যুলার পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই সম্প্রসারণ। নতুন কয়েকটি অফিসে কাজ শুরু হওয়ায় বর্তমানে দেশজুড়ে এফআরআরও-র সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০টিতে।

  • নতুন ৫টি অফিস: গত দু’বছরের মধ্যে জয়পুর, চণ্ডীগড়, গুয়াহাটি, আইজল এবং অমরাবতী শহরে পুরোদমে এফআরআরও অফিস চালু করা হয়েছে।

  • সদ্য বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া ৩টি: সম্প্রতি নাগাল্যান্ডের কোহিমা, ত্রিপুরা আগরতলা এবং ওড়িশার ভুবনেশ্বরে নতুন এফআরআরও চালুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র।

এর ফলে অতীতে যে সমস্ত রাজ্য পরিষেবা পাওয়ার জন্য অন্যান্য পার্শ্ববর্তী রাজ্য বা মহানগরের ওপর নির্ভরশীল ছিল—যেমন একসময় আইজল বা কোহিমার কাজ হতো কলকাতার অফিস থেকে—তারা এখন স্থানীয় স্তরেই অত্যন্ত দ্রুত সরাসরি এই পরিষেবা পাবে। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতেও দ্রুত অফিস তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

ই-এফআরআরও (e-FRRO) ও ৩৫টি ডিজিটাল পরিষেবা: বিদেশি নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে বর্তমানে ‘ই-এফআরআরও’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৩৫ ধরনের অনলাইন পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে:

  • ঘরে বসেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন বা নাম নথিভুক্তকরণের সুবিধা।

  • ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি (Visa Extension) এবং ভিসার শ্রেণি রূপান্তরের সুযোগ।

  • ভারতে বসবাসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি (Residential Permit) ও বিশেষ সংরক্ষিত এলাকায় ভ্রমণের ছাড়পত্র প্রদান।

  • ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত সময় অবস্থান (Overstay) সংক্রান্ত জটিলতাগুলোর দ্রুত নিস্পতি।

নতুন এই কাঠামোর আওতায় ‘ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন’ এবং এফআরআরও আধিকারিকরা একদিকে যেমন বিদেশি নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত কড়া নজরদারিতে রাখবেন। এর ফলে বৈধ উপায়ে আসা পর্যটক ও বিদেশি ছাত্ররা যেমন লাভবান হবেন, তেমনই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত ও সংহত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *