‘ওদের পরিকাঠামো আমাদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে!’ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ খেলে ফিরে বড় ফাঁস উদীয়মান ভারতীয় তারকার

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে বাকু থেকে নিজ শহর রিষড়ায় ফিরে এলেন উঠতি ডিফেন্ডার সৌম্যজিৎ সরকার। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে অবিশ্বাস্য ও দূরন্ত ফুটবল খেলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হুগলির এই কিশোর। মূলপর্বে ভারতীয় দল গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে গেলেও, বিশ্বমঞ্চে নিজের লড়াকু পারফরম্যান্সের সুবাদে এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী সৌম্যজিৎ। আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে দেশে ফেরার পর রবিবার নিজের বাড়িতে পৌঁছন তিনি। সেখানেই এক সাক্ষাৎকারে টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা ও ভারতীয় ফুটবলের অন্তরালে থাকা নানা কঠিন সত্য তুলে ধরেন তিনি।
পরিকাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন: সৌম্যজিতের কথায় সবার আগে উঠে এসেছে ভারতীয় ফুটবল এবং উন্নত বিশ্বের ফুটবল পরিকাঠামোর এক আকাশ-পাতাল ফারাকের কথা। বিস্ফোরক সুরে তিনি জানান, টুর্নামেন্টের জন্য তাঁরা খুব কম সময় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সৌম্যজিতের বক্তব্য, “প্রস্তুতির সময়টা আমরা খুবই কম পেয়েছি। আমরা মাত্র ২-৩ মাসের অনুশীলনে টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেছিলাম। আর বাইরের যে দলগুলো ছিল, তারা সবাই একসঙ্গে এক বা দু’বছর ধরে প্র্যাকটিস করে মাঠে নেমেছে। সেই তুলনায় আমরা অনেক ভালো পারফর্ম করেছি। সবথেকে বড় কথা হলো, আমাদের থেকে বাইরের দেশগুলোর গ্রাসরুট লেভেল (তৃণমূল স্তর) অনেক বেশি উন্নত।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌম্যজিতের এই বক্তব্যে ফের একবার পরিষ্কার হয়ে গেল যে, ভারতীয় ফুটবল আজও তৃণমূল স্তর থেকে কতটা পিছিয়ে রয়েছে। নতুন প্রতিভা অন্বেষণ, তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, সঠিক পরিচর্যা এবং ফিফা বা এএফসি-র টুর্নামেন্টে নামার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও টিম বন্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আমাদের দেশে আজও বহু ঘাটতি রয়ে গেছে।
কোয়ালিফিকেশন থেকে মূল পর্বের লড়াই: উল্লেখ্য, ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে মোট ১৮৯টি দল অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডের ‘গ্রুপ-কে’র অংশ ছিল ভারত। এই পর্বে লাওস, ক্যামেরুন ও বাহরিনের মতো দেশকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় কিশোররা। যদিও গ্রেনেডার বিরুদ্ধে ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয় এবং সেনেগালের বিরুদ্ধে ৬-১ গোলে হারতে হয় ব্লু কল্টসদের। তা সত্ত্বেও কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে তৃতীয় স্থান অধিকার করে মূল পর্বে প্রবেশ করে দেশের উদীয়মান তারকারা।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও ক্লাবের পছন্দ: বিশ্বমঞ্চের এই কঠিন লড়াইয়ের পর নিজের খেলা নিয়ে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী সৌম্যজিৎ। ভবিষ্যতে তাঁর লক্ষ্য কী? এই প্রশ্নের উত্তরে সে জানিয়েছে, “অবশ্যই আগামী দিনে জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি ক্লাবে খেলার স্বপ্নও দেখি।”
তবে কলকাতার ময়দানের দুই প্রধান ক্লাব—ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানে খেলার প্রসঙ্গে তার মত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সৌম্যজিতের স্পষ্ট কথা, “এখন আমি অন্য রাজ্যে খেলতে চাই। পরে সুযোগ হলে অবশ্যই কলকাতার ক্লাবে খেলব। ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান বলে আলাদা কোনো পছন্দের দল নেই, যখন যারা ভালো খেলে, তাদের খেলা দেখতে আমি ভালোবাসি।”