“ভারতে তো আপনি নাগরিকই নন!” voter তালিকা বিতর্ক ইস্যুতে ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে অভিনেতা ইমরান খানের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলল বম্বে হাইকোর্ট। সোমবার শুনানির সময় আদালতের পর্যবেক্ষণ— ইমরান ভারতের নাগরিক নন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাবিত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এই পরিস্থিতিতে একটি সম্পূর্ণ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিবাদে একজন বিদেশী নাগরিক হিসেবে তাঁর অংশ নেওয়ার অধিকার কতখানি, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর ইমরানের বিরুদ্ধে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’ (দেশ ছাড়ার নির্দেশ) জারি করেছিল মুম্বইয়ের ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (FRRO)। সেই নির্দেশের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন অভিনেতা।
সোমবার বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্ট জানায়, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে ইমরান খানের সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো স্বার্থ জড়িয়ে নেই। বিচারপতির মন্তব্য, এই ধরনের প্রশাসনিক ইস্যুতে অভিনেতার অংশগ্রহণ এক প্রকার উস্কানিমূলক বলে মনে হচ্ছে এবং এর জন্য তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তবে আইনি দিক থেকে ইমরান খান কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’-এর ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ইমরানের বিরুদ্ধে নোটিসের ভিত্তিতে কোনো কঠোর বা বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না।