নাসিকের আত্মসম্মানে আঘাত সইব না!” সিংহস্থ কুম্ভের মেগা ইভেন্টে সাংসদকে অপমান ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

নাসিকের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক সিংহস্থ কুম্ভ মেলার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় লোকসভার সাংসদ রাজভাউ ভাজে এবং ভাগুরের মেয়রের প্রতি কথিত অসম্মানজনক ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে রাজপথে নামল শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠী।
সোমবার সিংহস্থ কুম্ভ মেলা কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের সামনে ক্ষুব্ধ শিবসৈনিক ও দলীয় পদাধিকারীরা জমায়েত হয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং লাগাতার বিক্ষোভ-স্লোগান দেন। এরপর ঘটনায় ক্ষোভ জানাতে তাঁরা সরাসরি কমিশনার শেখর সিং এবং পৌর কমিশনার মনীষা খাত্রীর কার্যালয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে যান।
“সাংসদকে অপমান মানে সমগ্র নাসিকবাসীকে অপমান!” ক্ষোভে ফেটে পড়লেন উদ্ধব সেনার নেতারা
সিংহস্থ কুম্ভ মেলা কেবল কোনো সাধারণ সরকারি কর্মসূচি নয়, এটি নাসিকের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু। এত বড় একটি বৃহৎ ও পবিত্র আয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া এবং প্রোটোকল লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছে বিক্ষোভকারীরা।
এই ইস্যুতে শিবসেনা গ্রুপ লিডার ও কর্পোরেটর কেশব পর্জে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন:
“কুম্ভ মেলার যেকোনো পরিকল্পনায় নাসিকের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সম্মান এবং জনভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পতাকা উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে সাংসদ রাজভাউ ভাজের সঙ্গে যে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করা হয়েছে, তা কেবল একজন জনপ্রতিনিধির প্রতি অপমান নয়— বরং এটি সমগ্র নাসিকবাসীর আত্মসম্মানে আঘাত! আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, নাসিকবাসীদের আত্মসম্মানের প্রশ্নে কোনো আপোস করা হবে না।”
ভাগুরের মেয়রের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ, পৌর কমিশনারের হস্তক্ষেপ দাবি
কেবল সাংসদ রাজভাউ ভাজেই নন, সিংহস্থ কুম্ভ মেলার আয়োজনে ভাগুরের মেয়রের বিরুদ্ধেও চরম বৈষম্যমূলক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ নাসিক পৌর কর্পোরেশনের কমিশনার মনীষা খাত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারী নেতাদের মতে, কুম্ভ মেলার মতো মহোৎসব সফলভাবে আয়োজন করতে গেলে স্থানীয় নাগরিক, জনপ্রতিনিধি এবং সমস্ত সামাজিক গোষ্ঠীর পূর্ণ সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই উৎসবের সূচনা থেকে পরিচালনা পর্যন্ত স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের আস্থায় নেওয়া প্রশাসনিক প্রোটোকলের মধ্যে পড়ে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের সাথে এমন আচরণ না করা হয়, সে বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া, অন্যদিকে ড্রোন উড়ানোয় ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা
উদ্ধব শিবসেনা (UBT)-র বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলর, শীর্ষ পদাধিকারী এবং শিবসৈনিকদের এই বিশালাকার আন্দোলনের ফলে নাসিকের রাজনৈতিক পরিবেশ এক লহমায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সংস্থা এবং পুলিশের কড়া নির্দেশে পার্শ্ববর্তী ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে আগামী ৬০ দিনের জন্য সমস্ত ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কুম্ভ মেলার সিসিটিভি ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রশাসনিক এই ভুল পদক্ষেপ এখন রাজ্যের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিল।