ভক্তদের সাথে দেখা করতেই বুলেপ্রুফ কাঁচের ঘেরাটোপে অমিতাভ! বিগ বির সুরক্ষায় হঠাৎ এত কড়াকড়ি কেন?

বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের দশকের পর দশক ধরে চলা রবিবারের চেনা রুটিনে এল এক বড় পরিবর্তন। গত রবিবার (১ নভেম্বর) মুম্বইয়ের জুহুতে নিজের বাংলো ‘জলসা’-র বাইরে ভক্তদের অভিবাদন জানাতে এসেছিলেন বিগ বি। তবে বরাবরের মতো এবার আর সরাসরি ভক্তদের সামনে আসেননি তিনি, বরং তাঁর এবং ভিড়ের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি স্বচ্ছ সুরক্ষাবলয়— যা দেখে স্পষ্টতই বুলেটপ্রুফ এনক্লোজার বলে মনে হয়েছে।
সম্প্রতি মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা এবং গ্যাংস্টারদের তৎপরতার পরেই অমিতাভ বচ্চনের এই অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নজর কেড়েছে সবার।
কাঁচের ঘেরাটোপ থেকে ভক্তদের শুভেচ্ছা বিগ বির
প্রতি রবিবারই জুহুর ‘জলসা’-র গেটের বাইরে শত শত অনুরাগী তাঁদের প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় জমান। ভক্তদের সুবিধার জন্য একটি উঁচুতে থাকা চাকাযুক্ত প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন বিগ বি।
তবে গত ১ নভেম্বরের রবিবারের দেখা মেল অন্য এক ছবির। প্ল্যাটফর্মটির তিন দিক ঘেরা ছিল স্বচ্ছ সুরক্ষামূলক প্যানেল দিয়ে। সেই ঘেরাটোপের ভেতর থেকেই হাত নেড়ে এবং দূরে থেকেই অনুরাগীদের ভালোবাসার জবাব দেন অমিতাভ বচ্চন। এমনকি তাঁর সাথে ছিলেন পুত্র তথা অভিনেতা অভিষেক বচ্চনও। যদিও এই বিশেষ কাঁচের দেওয়াল কোনো সরকারি নিরাপত্তা নাকি দলের তরফ থেকে নেওয়া ব্যক্তিগত সতর্কতা, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
‘জলসা’ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও টাইগার শ্রফের ওপর হামলা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়াকড়ির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু চাঞ্চল্যকর হুমকি। গত ২৩ অক্টোবর মেয়র ঋতু তাওড়ে এবং ডেপুটি মেয়র সঞ্জয় ঘাড়ির কাছে একটি ইমেল আসে, যেখানে অমিতাভ বচ্চনের বাংলো ‘জলসা’ এবং গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্ট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে ‘জলসা’-য় হামলা চালানো হতে পারে বলে সেই ইমেলে জানানো হয়েছিল।
এর পাশাপাশি, মাত্র কদিন আগেই মুম্বইয়ের জুহুতে অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা পুরো বলিউডকে স্তব্ধ করে দেয়। ফুটবল খেলা থেকে ফেরার পথে টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, আমির খান, অক্ষয় কুমার এবং সলমন খানের মতো শীর্ষ তারকাদের বাড়ির চারপাশেও রিকি (রেকি) বা নজরদারি চালিয়েছিল।
ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বলিউডের তাবড় তারকাদের বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।