ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে আছড়ে পড়ছে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! গভীর রাতে অন্ধ্র উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা

পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ (Cyclone Murasu)। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে বা মঙ্গলবার ভোরের দিকে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই শক্তিশালী সাইক্লোন। ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে এবং প্রশাসনের প্রস্তুতিই বা কেমন, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে ছুটছে ‘মুরাসু’
আলিপুর হাওয়া অফিস ও কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, গত ছ’ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ এটি ১৩.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১.৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

সেই সময় তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে এর দূরত্ব ছিল পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি, অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে ২১০ কিমি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ২৭০ কিমি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ২২০ কিমি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে এবং ওঙ্গোল থেকে ২৬০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল এই ঝড়।

কখন এবং কোথায় ল্যান্ডফল?
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ৩ নভেম্বর মধ্যরাত (১১টা ৩০ মিনিট) থেকে ভোর ৪টের মধ্যে নেল্লোর এবং নরসাপুরের মাঝে ওঙ্গোলের কাছাকাছি উপকূল অতিক্রম করবে মুরাসু। অর্থাৎ মঙ্গলবার ভোরের মধ্যেই এটি উপকূলে আছড়ে পড়বে।

স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় এটি একটি ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানবে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, যা সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রস্তুত উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসন
মাত্র কদিন আগেই ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। তার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে আরও এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। সম্ভাব্য এই ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তৎপর অন্ধ্র ও ওড়িশা প্রশাসন:

এনডিআরএফ (NDRF) মোতায়েন: উদ্ধার ও ত্রাণ কাজের জন্য তামিলনাড়ুর রানিপেট জেলার আরাককোনামের কাছে নাগারিকুপ্পামে থাকা এনডিআরএফ-এর ৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি দলকে ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

রায়গড়াতেও প্রস্তুতি: ওড়িশার রায়গড়া জেলা প্রশাসনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমেছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দমকলের ১১টি দল এবং ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার জেলাশাসকের নেতৃত্বে ভার্চুয়াল জরুরি বৈঠক করে সমস্ত আশ্রয়কেন্দ্র, ত্রাণ ও চিকিৎসাব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

বঙ্গে কি কোনো প্রভাব পড়বে?
বাংলার বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর তেমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব বঙ্গে পড়বে না। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। আগামী দুদিন বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হলেও বুধবার থেকে আবহাওয়া সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *