১২৫ দিনের কাজের বকেয়া মেটাতে সোজা ৪৬ কোটি টাকা ঢুকলো বাঁকুড়ায়! অ্যাকাউন্টে কবে আসবে টাকা?

১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে (125 Days Work) যুক্ত শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে চলেছে। সময়মতো বকেয়া না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে কাজ করার অনীহা তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সেই সংকট কাটাতে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছাল বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ—এক ধাক্কায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা! এই মোটা অঙ্কের অর্থ আসার ফলে যেমন দীর্ঘদিন আটকে থাকা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দ্রুত মিটিয়ে ফেলা যাবে, ঠিক তেমনই নতুন করে বহু শ্রমিককে প্রকল্পে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি!

বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তথা এই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চিরন্তন প্রামাণিক জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে শ্রমিকদের প্রায় ১১ কোটি টাকার মজুরি বকেয়া রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬ কোটি টাকা সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার নির্দেশ ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সমস্ত শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে এই বকেয়া অর্থ পৌঁছে যাবে।

তিনি আরও আশ্বস্ত করে জানান যে, প্রথম দফায় কিছু যান্ত্রিক ও পরিকাঠামোগত কারণে টাকা পাঠাতে বিলম্ব হলেও, আগামী দিনে অর্থ পরিশোধ নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

নির্মাণ কাজের জন্য অতিরিক্ত ৩০ কোটি, নতুন নিয়োগের সুযোগ

মজুরি খাতের ৪৬ কোটি টাকার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আরও ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সমস্ত বকেয়া মেটানোর পরেও জেলা প্রশাসনের হাতে উদ্বৃত্ত ফান্ড থাকবে, যার ফলে নতুন করে আরও বহু বেকার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা সহজ হবে।

৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি, শ্রমদিবস তৈরিতে এগিয়ে বাঁকুড়া

উল্লেখ্য, ভিবি জি রাম জি প্রকল্পের নীতি অনুযায়ী জবকার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে বছরে ১২৫ দিনের কাজ সুনিশ্চিত করা হয়, যেখানে অদক্ষ শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা হারে মজুরি পেয়ে থাকেন। পরিসংখ্যান বলছে, বাঁকুড়া জেলায় গত কয়েক মাসে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ শ্রমদিবস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার শ্রমিককে সরাসরি কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলার ১৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের গড় শ্রমদিবস তৈরির হিসাব ধরলে বাঁকুড়া বর্তমানে রাজ্য তালিকায় প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। যদিও দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে শ্রমিকরা কাজে কম আসায় সার্বিক শ্রমদিবস তৈরির গতি কিছুটা কমেছিল, তবে লক্ষ্মীপুজোর পর থেকে পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে।

কাটল প্রযুক্তিগত জটিলতা, বাড়বে প্রকল্পের গতি

জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, সরকারের তরফ থেকে ফান্ড নিয়ে আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও প্রায় এক মাস আগে কেন্দ্রীয় পোর্টালে প্রযুক্তিগত গোলযোগের (Technical Issue) কারণে সারা দেশজুড়েই ১২৫ দিনের কাজের গতি থমকে গিয়েছিল। ফলে মজুরি প্রদান স্তব্ধ হয় এবং শ্রমিকদের মধ্যেও কাজের আগ্রহ হ্রাস পায়। তবে এবার এক লপ্তে ৪৬ কোটি টাকার জোয়ার জেলায় কাজের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *