ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজো দুর্নীতিতে এবার ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে লালবাজারে তলব! শিকড় আরও গভীরে?

দুর্গাপূজার বহুল চর্চিত ‘প্রিভিউ শো’ এবং পাস বিক্রি সংক্রান্ত কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই দুর্নীতি মামলায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। গত শনিবার লালবাজারে ডেকে দীর্ঘ সময় জেরা করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে। আর এবার এই কেলেঙ্কারির জালে জড়াল প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যা আভেরি সেনের নামও। সরকারি গ্র্যান্ট ও বিভিন্ন ফান্ড থেকে ঘুরপথে কোটি কোটি টাকা ইন্দ্রনীল-কন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকার বিস্ফোরক অভিযোগে তাঁকে দুপুর ১২টায় লালবাজারে তলব করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
‘সম্পূর্ণ পরিবার যুক্ত দুর্নীতিতে’, দাবি পুলিশের
তদন্তকারী গোয়েন্দাদের দাবি, পুজো পাস বিক্রির এই মেগা আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে ইন্দ্রনীল সেনের পুরো পরিবারই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে দুর্গোৎসবের প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রি করে বিপুল টাকা তছরুপের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই সংস্থাই হলো ‘মাস আর্ট’ (Mass Art)। আর এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন খোদ ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন।
গত জুন মাসে বউবাজার থানায় যে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়, তাতে প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের এবং দ্বিতীয় স্থানেই ছিল তাঁর স্ত্রী মধুছন্দার নাম। বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের অনুমতিপত্র থেকে শুরু করে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সব আইনি নথিতে তাঁরই স্বাক্ষর রয়েছে। শনিবারে সিটের (SIT) টানা জেরায় অবশ্য মধুছন্দা দাবি করেন, ‘মাস আর্ট’-এর অন্যান্য কর্তারা তাঁকে যেখানে যেখানে সই করতে বলতেন, তিনি শুধুমাত্র সেখানেই সই করেছেন। ইন্দ্রনীল সেন স্ত্রীকে চাপ দিয়ে সই করাতেন কিনা, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মেয়ের সংস্থায় লাখ লাখ টাকা ট্রান্সফার! সোজাসুজি লালবাজারের সমন
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তদন্তে নেমে জানতে পেরেছেন, ইন্দ্রনীল সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সংস্থা ‘থার্ড লাইন ক্রিয়েশন’ (Third Line Creation) মাস আর্ট সোসাইটিকে প্রায় ৬৬ লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ২২.৪৭ লাখ টাকা সরাসরি পাঠানো হয় ‘আইস্কেপ’ (Iscape) ও ‘মায়রা’ (Mayra) নামক দুটি সংস্থায়। আর এই দুটি সংস্থাই প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কন্যা।
টাকার এই অদ্ভুত পথ বদল ও জালিয়াতির সত্যতা যাচাই করতেই প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়েকে লালবাজারে তলব করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় নাম ওঠা সংস্থার সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং অন্য দুই আধিকারিককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গোয়েন্দারা।
ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কিছু নামজাদা পুজো উদ্যোক্তা লালবাজারে গিয়ে বয়ান দিয়ে জানিয়েছেন, ইউনেস্কোর লোগো দেখে বিশ্বস্ততা তৈরি হওয়াতেই তাঁরা এতে অংশ নিয়েছিলেন। মাস আর্টের কর্মীরাই সরেজমিনে মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রিভিউ শো-এর বন্দোবস্ত করত। সব মিলিয়ে, প্রাক্তন মন্ত্রীর কর্মচারীদের কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহের পর এবার পুরো পরিবারের উপর লালবাজারের সমন জারিতে রাজ্য রাজনীতিতে চরম সোরগোল তৈরি হয়েছে।