‘ইন্ডি’ জোটের মেগা শো-তে মারাত্মক কারচুপি? ভিড় দেখাতে AI ছবি বানাল কংগ্রেস! কিরেন রিজিজুর পোস্ট ঘিরে তীব্র শোরগোল

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের বিতর্কিত মহাসমাবেশকে ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক তরজা। সমাবেশে বিপুল লোকসমাগম হয়েছে—এমনটা প্রমাণ করতে কংগ্রেস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো ছবি তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কংগ্রেসের এই ধরনের প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় “ভুয়ো বয়ান তৈরির চেষ্টা” বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রিজিজুর সোজাসাপ্টা আক্রমণ
১ নভেম্বরের ওই সমাবেশের পর কংগ্রেস সাংসদ ভামসি গাদ্দামসহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা রামলীলা ময়দানে জনসমুদ্রের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ কিরেন রিজিজু লেখেন, “রামলীলা ময়দানে বড় জনসমাগম দেখাতে চাইলে, কংগ্রেসের অন্তত এআই (AI) দিয়ে তৈরি ছবিটি ঠিকঠাকভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল! রামলীলা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ ছিল তা দেখানোর জন্য যে ভুয়ো ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তাও কংগ্রেসের এই ‘ভুয়ো বয়ান’ তৈরির পিআর দল ঠিকমতো করতে পারেনি!”

‘১০ লক্ষ লোক নয়, খালি পড়ে ছিল ৫-৭ হাজার চেয়ার!’ তোপ সম্বিত পাত্রর
শুধু কিরেন রিজিজুই নন, সমাবেশ ঘিরে লোকসমাগমের মিথ্যা দাবি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। তিনি দাবি করেন, বিরোধী নেতৃত্ব ১০ লক্ষ মানুষের উপস্থিতির বড় বড় কথা বললেও বাস্তব ছবিটা ছিল একেবারেই ভিন্ন।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী সম্বিত পাত্র স্পষ্ট জানান, “বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের সময় রামলীলা ময়দানের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা পড়েছিল। পাতা থাকা ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার চেয়ার পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। রাহুল গান্ধী ও তাঁর দল ১০ লক্ষ মানুষের আসার যে দাবি ঝুলিয়েছিলেন, তার আসল সত্য এটাই।”

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের মেগা শো
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ১লা নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে একজোট হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের মতো হেভিওয়েট নেতারা এতে অংশ নেন।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ভোট চুরিতে সহায়তার অভিযোগ এনে কড়া হুঁশিয়ারি দেন এবং তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে জেলে পাঠানোর দাবি তোলেন।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের (IYC) জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব দাবি করেছেন, সারা দেশ থেকে তাঁদের ২০ হাজারের বেশি কর্মী এই ‘চলো দিল্লি’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে একদিকে বিরোধী শিবিরের জোরালো প্রতিবাদ, আর অন্যদিকে বিজেপির ফেক এআই (AI) ছবির অভিযোগ—দুই মিলেই দিল্লির রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, তোলপাড় পুরো রাজনৈতিক ক্ষেত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *