‘৬ মাসের মধ্যে টলিউডের চেহারা বদলে দেব!’ ভোট ময়দানে নেমেই মহা-ঘোষণা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ায় শুরু হয়েছে ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (Technicians Guild)-র নির্বাচন। শনিবারের পর রবিবারও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ পর্ব চলছে। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না, তা সরেজমিন খতিয়ে দেখতে খোদ ময়দানে নেমেছিলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট তারকারা। তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার দাবি উঠলেও, ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে টলিউডের অন্দরে এবং বিজেপি শিবিরের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

‘পুরোনো অত্যাচার আবার শুরু হতে পারে!’—পাপিয়া অধিকারীর মারাত্মক অভিযোগ

স্বরূপ বিশ্বাসের আমলে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী গতকালের পর রবিবারও স্টুডিওপাড়ার এই নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যেই চরম ক্ষোভ উগরে দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাপিয়া দেবীর স্পষ্ট দাবি, “মিঠুনদা হয়তো সব মানুষকে ভালো করে চেনেন না, কিন্তু এদের অনেকেই ফের পুরোনো কায়দায় অত্যাচার শুরু করতে পারে। যদি সাধারণ টেকনিশিয়ানদের ওপর সেই অত্যাচার আবার শুরু হয়, তবে এলাকার বিধায়ক হিসেবে আমাকেই তার জবাবদিহি করতে হবে। এখনও বহু মানুষ বাইরে রয়ে গেছে, অবিলম্বে তাদের বৈধ কার্ড দিতে হবে।”

রুদ্রনীল ঘোষের ব্যাখ্যা ও লেবার কমিশনের নিয়মাবলি

পাপিয়া অধিকারীর এই প্রকাশ্য ক্ষোভের পর দলেরই আর এক বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ গোটা বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, এই ট্রেড ইউনিয়ন নির্বাচনের গঠনতন্ত্র সাধারণ রাজনীতির চেয়ে অনেকটাই আলাদা।

রুদ্রনীলের বক্তব্য, “এই ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচন এবং সাধারণ রাজনৈতিক নির্বাচনের মধ্যে একটা বড় তফাত রয়েছে। এটা বুঝতে না পারলে মনের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। মানুষ ভাবছেন এখানে হয়তো সরাসরি কোনো একক পদের নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু তা নয়। এখানে মোট ২৩টি গিল্ড রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৩৩৩ জন প্রার্থী লড়ছেন। প্রতিটি গিল্ড এক একটি স্বতন্ত্র ট্রেড ইউনিয়ন বডি। সেখানে বাইরে থেকে আমরা কেউই মাথা গলাতে বা নিয়ম বহির্ভূত নির্দেশ দিতে পারি না। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে লেবার কমিশন দ্বারা মনিটর করা হয় এবং তাদের তৈরি করা নিয়ম মেনেই ভোট হচ্ছে।”

‘মিথ্যেকে কোনো প্রশ্রয় দেব না, ৬ মাসে টলিউডের চেহারা বদলাবে!’—পাল্টা হুঙ্কার মিঠুন চক্রবর্তীর

পাপিয়া অধিকারীর সমস্ত অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়ে টালিগঞ্জের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত আশাবাদী সুর শুনিয়েছেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। স্টুডিওপাড়ার ভোট পরিদর্শন করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে।

মিঠুন চক্রবর্তী অত্যন্ত শক্ত ভাষায় বলেন:

“আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চেহারাই পুরোপুরি বদলে যাবে! যাঁদের নথি বা ডকুমেন্টস ১০০ শতাংশ সত্যি এবং যাঁরা আসল কর্মী, কেবল তাঁদেরই কাজে নেওয়া হবে। কোনো ধরনের মিথ্যে বা দুর্নীতিকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সব যোগ্য ব্যক্তি কাজ পাবেন, এটাই হলো আসল গণতন্ত্র।”

ভুয়ো কার্ড ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “সবাই খুব আনন্দ ও হাসিখুশির সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। তবে হ্যাঁ, যাদের কার্ড সম্পূর্ণ ভুয়ো বা মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে—এমনকি এমন মানুষের নামেও কার্ড রয়েছে যিনি মারা গিয়েছেন—সেই জালিয়াতি আর চলবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মিথ্যেকে সমর্থন করি না।”

ভোটের ময়দানে একদিকে পাপিয়া অধিকারীর বিস্ফোরক অভিযোগ এবং অন্যদিকে মিঠুন চক্রবর্তীর কড়া হুঙ্কার—সব মিলিয়ে টলিউডের এই নির্বাচন এখন রাজ্য রাজনীতিরও অন্যতম হট টপিক হয়ে উঠেছে!

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *