‘নভেম্বরেই ঘূর্ণাবর্তের চোখ রাঙানি, কবে থেকে নামবে পারদ?’ জাঁকিয়ে শীত নিয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিরাট আপডেট!

নভেম্বরের শুরুতে আবহাওয়া নিয়ে বড়সড় আপডেট দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর (IMD)। একদিকে যখন শীতের আমেজ উপভোগ করার জন্য রাজ্যবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, ঠিক তখনই আবহাওয়ায় বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘনাতে থাকা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে হালকা বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নভেম্বরের শুরুতে এখনই বঙ্গে পাকাপাকিভাবে জাঁকিয়ে শীত পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।
-
তাপমাত্রা: কলকাতায় এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকায় এখনই শীতের চাদর গায়ে জড়ানোর সময় আসছে না।
-
বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি: কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বৃষ্টির কোনো সতর্কতা নেই।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া: কোথায় বৃষ্টি, কোথায় ঠান্ডার আমেজ?
দক্ষিণবঙ্গে যখন আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে, তখন উত্তরবঙ্গের ছবিটা কিছুটা আলাদা।
-
প্রথম সপ্তাহ: নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে ৫ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
-
পাহাড়ে শীতের পরশ: নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উত্তরবঙ্গে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে। রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমায় সমতল এলাকায় হালকা শীতের আমেজ টের পাওয়া যাবে এবং কিছু এলাকায় কুয়াশাও পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভালোমতো ঠান্ডা পড়তে শুরু করায় পর্যটকরা শীতের আমেজ উপভোগ করছেন।
ডিসেম্বরে কবে পড়বে জাঁকিয়ে শীত? জানাল আবহাওয়া দফতর
নভেম্বরের শুরুতে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও টানা ঠান্ডা পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়াবিদদের মতে, নভেম্বরের শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবেই উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে হিমেল হাওয়া রাজ্যে প্রবেশ করার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।
-
ডিসেম্বর মাসেই কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা: আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে পাকাপাকিভাবে জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
-
শীতের স্থায়িত্ব কম: তবে সবথেকে বড় চমক হলো, এ বছর শীতের স্থায়িত্ব তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন কড়া ঠান্ডা বা জাঁকিয়ে শীত অনুভূত হতে পারে। ফলে যারা দীর্ঘমেয়াদী কনকনে শীতের অপেক্ষায় দিন গুনছেন, তাঁদের জন্য শীতের এই ক্ষণস্থায়ী ইনিংস কিছুটা হলেও হতাশ করতে পারে!