‘গম্ভীর ভাষণ ছেড়ে পপ-রকের ছন্দে কোমর দোলালেন রাজনীতিকরাও!’ রামলীলার মঞ্চে মমতার বার্তা ও মহুয়া মৈত্রের ভিডিও ঘিরে তোলপাড়!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে (Ramlila Maidan) বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের (INDIA Rally) মহাসমাবেশ। তবে অন্য সব রাজনৈতিক সমাবেশের চেনা ছবিকে একঝটকায় বদলে দিল রবিবারের রামলীলা! গম্ভীর মুখের গুরুগম্ভীর ভাষণ আর কেবল স্লোগানের চিরাচরিত গণ্ডি ডিঙিয়ে শনিবার রাত থেকে শুরু করে রবিবার সমাবেশ চলার পুরো সময়টাই এক অভূতপূর্ব ‘সং’বিধানে মুখরিত হয়ে রইল দিল্লির বাতাস।
মঞ্চের গান ও মিউজিকের তালে ‘হই হই’ করে কোমর দোলাতে দেখা গেল রাজনীতিক থেকে শুরু করে উপস্থিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষকেও!
‘জয় হো’ থেকে পপ-রকের ফিউশন: কোমর দোলালেন মহুয়া মৈত্রও!
রবিবার বিকেল গড়াতেই রামলীলা ময়দানের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছিল পপ এবং রকের দুর্দান্ত ফিউশনে। হাই-ভোল্টেজ সাউন্ড সিস্টেমে বাজতে শুরু করে একের পর এক আইকনিক ট্র্যাক— ‘থোড়ি সি ধূল মেরি’, ‘মেরা রং দে বসন্তি চোলা’, আর তার পরপরই ‘সুনো গৌর সে দুনিয়া ওয়ালো’ এবং এ আর রহমানের অস্কারজয়ী ‘জয় হো’!
-
উত্তাল জনতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা: মিউজিকের এই দারুণ ছন্দে মঞ্চে উপস্থিত হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক—সকলকেই তাল মেলাতে দেখা যায়।
-
স্ট্যাটাসে ভিডিও ঝড়ের খবর: তৃণমূলের অগ্নিকন্যা সাংসদ মহুয়া মৈত্রও পিছিয়ে ছিলেন না এই মেজাজ থেকে। মঞ্চে গানের ছন্দে মাতোয়ারা সেই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসেও আপলোড করেন তিনি, যা নিমেষেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ রেওয়াজ বজায় থাকলেও, রাজনৈতিক মঞ্চে গানের এই আধুনিক মেজাজ আসলে বর্তমানের ‘জেন জি’ (Gen-Z) বা তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করারই এক সুচিন্তিত ও সুচতুর রাজনৈতিক কৌশল।
‘তরুণ রক্তই দেশকে বাঁচাবে!’—রামলীলায় বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
রাজনীতির আঙিনায় এই পরিবর্তনের হাওয়াকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এদিনের সমাবেশে সংহতি জানান পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর পুরো ভাষণের শুরু ও শেষ জুড়ে বিশেষ বার্তা দেন দেশের যুবসমাজকে।
নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের শাসকদলকে একাসনে বসিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন:
“দেশের তরুণ ও যুবসমাজই যা উত্তর দেওয়ার দেবে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের কাজ হলো বিপদে-আপদে তাঁদের শুধু সঠিক পথটা দেখিয়ে দেওয়া।”
তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আজ এই দেশকে বাঁচাতে হলে সমস্ত দলমত নির্বিশেষে দেশের এই তরুণ রক্তকেই একজোট হয়ে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই চালাতে হবে।”
নতুন ধানের চালের গন্ধ!
বাংলায় একটি চিরন্তন প্রবাদ আছে—‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে, কিন্তু নতুন ধানের চালের গন্ধই আলাদা!’
রবিবারের দিল্লির রামলীলা ময়দান যেন রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে, আগামী দিনের মূল শক্তিই হলো এই তরুণ প্রজন্ম, অর্থাৎ সেই নতুন চালের সুবাস। যা ইতিমধ্যেই দেশের রাজনীতির আবহাওয়ায় নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে!